34 C
আবহাওয়া
৫:১৩ অপরাহ্ণ - মে ২৩, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » উল্টে গেল পাশা? মব স্টারদের দুঃসময় শুরু?

উল্টে গেল পাশা? মব স্টারদের দুঃসময় শুরু?


বিএনএ, ঢাকা: ৫ই আগস্ট, ২০২৪। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা। গণভবন লুট থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া—সবই ছিল এক চরম উত্তেজনার ফল। যাকে অনেকে বলছেন ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খলার রাজত্ব। কিন্তু সময়ের চাকা কি আজ ঘুরে যাচ্ছে? যারা একসময় এই পরিস্থিতির রাজপুত্র ছিলেন, তারা কি এখন নিজেরাই জনগণের কাঠগড়ায়? কেন তোপের মুখে পড়ছেন এনসিপি নেতারা? এই প্রতিবেদনে  আমরা তুলে ধরবো ‘মব স্টার’দের বর্তমান দুর্দিনের চিত্র।

৫ই আগস্টের পর থেকে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা কোনো সাধারণ বিবর্তন ছিল না। আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং দলটির নেতাদের বাসভবনে একের পর এক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পিটিয়ে হত্যা করা হয় বহু নেতাকর্মীকে। অভিযোগ আছে, সেনাবাহিনী এই নৈরাজ্যের সময় নীরব ভূমিকা পালন করেছিল। এমনকি ড. ইউনূস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমন্বয়কদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেছেন বলে দাবি অনেক মহলের।

এই মব কালচার কেবল রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুক্তচিন্তার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং উদীচীর কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। তথাকথিত ‘বিপ্লবের’ নামে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়। প্রথম জন জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটে বিদেশের মাটিতে।

২০২৪ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর। ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে, নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও ডা. তাসনীম জারা। সেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হাতে তিনি শুধু হেনস্তাই হননি, তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এটি ছিল মব স্টারদের জন্য বিদেশের মাটিতে প্রথম এক বড় ধাক্কা।

এবার আসা যাক, নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রসঙ্গে।  যাদের হাত ধরে  আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা রেজিম  পরিবর্তনের সূচনা, তাদেরই একজন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিন্তু সময় বদলেছে। গত ২৩শে জানুয়ারি ঢাকা-৮ আসনের পথসভায় তার ওপর ছোঁড়া হয় ডিম ও নোংরা পানি। এখানেই শেষ নয়, গত শুক্রবার ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে আবারও একই ধরনের আক্রমণের শিকার হন তিনি।

একসময় যারা রাজপথ কাঁপাতেন, আজ তাদের কেন জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে? এটি কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? একজন প্রভাবশালী সমন্বয়ক থেকে জনরোষের টার্গেট—এই রূপান্তর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মব কালচার বা গণপিটুনির সংস্কৃতি একটি দ্বিধারী তলোয়ার। ড. ইউনূস সরকার যখন মব জাস্টিসকে প্রশ্রয় দিচ্ছিল, তখনই অনেকে সতর্ক করেছিলেন যে, এই আগুন একদিন নিজেদের ঘরেও পৌঁছাবে।  মব জাস্টিস বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যে সংস্কৃতি ৫ই আগস্টের পর শুরু হয়েছিল, আজ তা বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে। যারা একসময় ভাঙচুরকে বৈধতা দিয়েছিলেন, আজ তারা নিজেরাই সেই রোষের শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশে মব কালচার যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা থেকে রেহাই পাচ্ছে না খোদ পরিবর্তনের কারিগররাও। আজ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তোপের মুখে পড়েছেন, কাল হয়তো অন্য কেউ। প্রশ্ন হলো, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতি কি থামবে? নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই চক্র দেশকে আরও বড় সংকটে ফেলবে?

বিএনএ/ সৈয়দ সাকিব

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ