33.3 C
আবহাওয়া
৬:০৬ অপরাহ্ণ - জুলাই ২৮, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও এক-দুই বছর থাকবে!

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও এক-দুই বছর থাকবে!


অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আগামী বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের হবে এমনটা জোর দিয়ে বললেও দেশের বেশিরভাগ মানুষ তাতে বিশ্বাস করছে না। জনগণের মধ্যে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার সহজে ক্ষমতা ছাড়বেন না। কোন না কোন কৌশলে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করবেন। জনগণের এই ধারনারকে আরও পাকাপোক্ত করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

YouTube player

তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও এক-দুই বছর থাকবে। সোমবার প্রকাশিত নিজের ফেসবুকে ‘আগামী পাঁচ বছরে আমরা কোথায় যাচ্ছি?’ শিরোনামের এক ধারাবাহিক পোস্টে সাবেক জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া এ কথা বলেন ।

ইকেবি নামে পরিচিত সাবেক এই জেনারেল বলেন, ‘১/২ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতা আরোহণের সম্ভাবনা আছে। তবে বিএনপি পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারবে কি না— তা নির্ভর করবে কিছুটা ভারতের কৌশলগত অবস্থান এবং কিছুটা আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ও শক্তি সঞ্চয়ের ওপর। যদি বিএনপি তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পরিকল্পিত সহিংসতা-বিরোধী আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয় তবে ১/১১-র পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’

ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, ‘অদক্ষতা, আইন-শৃঙ্খলা অবনতির কারণে অথবা ছাত্রচাপের মুখে সংস্কার-মিশনে হাত দিলে, নির্বাচন না হয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকবে। তখন দুর্বল মন্ত্রীরা বদলাবে এবং ড. ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করে ঐকমত্যের জাতীয় সরকার গঠিত হবে।’

সাবেক সেনাপ্রধান লিখেন, ‘সংবিধান বদলের ক্ষীণ গুঞ্জন উচ্চকিত হলে— আগামী পাঁচ বছর যাবে গণপরিষদের নির্বাচন, সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটে। যাই ঘটুক, এই পাঁচটি বছর দেশকে বাস করতে হবে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, প্রতিবাদ, আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতার ভেতর দিয়ে। পঙ্গু অর্থনীতি দরিদ্রদের আরও বিপদ ফেলবে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশ ক্রমাগত পেছাতে থাকবে।

সাবেক জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার ফেসবুক পোস্টের একদিন আগে জামায়াত ইসলামী নির্বাচন পিছিয়ে নিয়ে ড. ইউনূস সরকারের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। গত রোববার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কথিত ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) আন্দোলন’ একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

আল্লাহ ও এ দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণ আর কখনোই অসৎ, সুযোগসন্ধানী এবং নৈতিকভাবে দেউলিয়া শক্তিকে তাদের শাসন করার সুযোগ দেবে না বলেও মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। এনসিপি আহবায়কের এ বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে।

এদিকে বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে ওই চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে ড. ইউনূসকে বলা হয়,‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর বিস্তৃত পরিসরে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন। এ আইনের আওতায় সভা, সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অতিমাত্রায় সীমিত করা হয়েছে এবং তা শান্তিপূর্ণ কার্যক্রমে যুক্ত আওয়ামী লীগের সদস্য ও সমর্থক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া জাতিসংঘের সত্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যেমনটি সুপারিশ করা হয়েছিল, ওই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়—অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত করবে এবং বাংলাদেশি ভোটারদের বড় অংশকে কার্যত বঞ্চিত করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন করার জন্য ড. ইউনূস সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে তা ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা চাপের মুখে পিছিয়ে গেলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।

সৈয়দ সাকিব

Loading


শিরোনাম বিএনএ