22 C
আবহাওয়া
৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ - মে ২৬, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘রাজনৈতিক প্রতারক’!

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘রাজনৈতিক প্রতারক’!


বিএনএ, ঢাকা: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে পাশে বসিয়ে ২০২৫ সালের ১৪ই মার্চ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করতে গিয়ে ২০২৬ সালের ঈদ রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে গিয়ে উদ্‌যাপন করবেন’-এমন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা, নোবেলজয়ী পরিচিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা সব মিলিয়ে তাঁর এমন অঙ্গীকারে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে তৈরি হয়েছিল নতুন প্রত্যাশা। রোহিঙ্গারা আশায় বুক বাঁধলেও শুরু হয়নি একজন রোহিঙ্গারও প্রত্যাবাসন। উল্টো  প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর ইউনূস সরকার  রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানোর স্বপ্ন দেখালেও  তার ১৯ মাসের শাসনামলে শুরু করতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবাসন। এই বিশাল ব্যর্থতা কি ড. ইউনূসের ভুল হিসাব ছিল, নাকি তাকে ডিপ স্টেট থেকে এমন কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যা পরে রক্ষা করা হয়নি? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে এটি স্পষ্টতই একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, ড. ইউনূস ডিপ স্টেট এর প্রতিনিধি হিসাবে ক্ষমতাসীন হয়েছেন। তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের মুলা ঝুলিয়ে নানা প্রলুব্ধকর কথা বলে মূলত:  ডিপ স্টেটের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। মব-উগ্রবাদের লালন করার পাশাপাশি  তিনি দেশের মানুষের স্বার্থ বিরোধী কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

ড. ইউনূস সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে, কিন্তু রোহিঙ্গারা বন্দি রয়ে গেছে ঠিক কাঁটাতারের শরণার্থী শিবিরে। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা ৩৩ টি আশ্রয় শিবিরে নয় বছর ধরে অবস্থান করছে। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজারে গড়ে ওঠা আশ্রয়শিবিরিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবির।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ‘ডিপ স্টেট’এর পরিকল্পনা অনুয়ায়ি রাখাইন এলাকাটি খৃস্টান রাষ্ট্র বানানোর অংশ হিসাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢেলে দেয়া হচ্ছে। আগে মিয়ানমারে জান্তা সরকার পরিকল্পিতভাবে জাতিগত দাঙ্গা লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করে। এখন বিদ্রোহী আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের অস্ত্রের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য করছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৩ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” গঠনের চক্রান্তের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন। শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন যে, জনৈক “সাদা চামড়ার” বিদেশি তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বিমান ঘাঁটি করতে দিলে তাকে নির্বিঘ্নে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো হবে । তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ নিয়ে পূর্ব তিমুরের মতো একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, “ডিপ স্টেট” বা শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে একটি স্থায়ী অস্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়। তাদের লক্ষ্য হতে পারে রাখাইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একটি নতুন নিয়ন্ত্রণ বলয় তৈরি করা। শেখ হাসিনা ডিপ স্টেটের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দিয়ে তাদের আস্থাভাজন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। অতপর:এই দীর্ঘমেয়াদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সব ধরনের দালিলিক কার্যক্রম সম্পাদন করে নিয়েছে কথিত  “ডিপ স্টেট”।

বিএনএ/ওজি

Loading


শিরোনাম বিএনএ