কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৪২

১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ পূর্ব বাংলা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরেও ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি মুসলিম লীগে ছিলেন ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত।

আরো পড়ুন

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৫৮

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৫৭

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৫৬

এই দীর্ঘ ১১ বৎসরের মধ্যে ৯ বৎসর মুসলিম লীগ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় ছিল । তখন তিনি মুসলিম লীগের সভ্য হয়েও একদিনও পূর্ব বাংলার শোষণের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেন নাই । শুধু সমর্থন করেন নাই, ভাতা নিয়ে সমর্থন করেছেন । তিনি যখন ইসলামের নাম করে সত্য কথা না বলে, এমন কি মাথায় কিস্তি টুপি দিয়ে রাজনীতিবিদদের গালাগালি করেন তখন হাসি পায় । বাইরে থাকতেও কোনোদিন এদের কথার উত্তর দিবার প্রবৃত্তি আমার হয় নাই । কারণ আমি জানি এদের চাকরি আইয়ুব খান সাহেবের দয়ার উপর নির্ভর করে । তাঁকে খুশি রাখলে সব ঠিক, জনমতের এরা কি ধার ধারে ?

খবরের কাগজ এল। পাকিস্তান অবজারভার দেখে ভাবলাম বোধহয় খবর একটু এরা ছাপে আজকাল । আমি নিজে অবজারভার সকল সময়ই পড়ি । একবার কয়েকদিনের জন্য রাগ হয়ে বন্ধ করেছিলাম বাইরে থাকতে । আবার নিলাম, কারণ যাহাই হউক না কেন পূর্ব বাংলার কাগজ। মর্নিং নিউজের মতো পশ্চিমা শিল্পপতিদের মুখপাত্র নয় । এবং সরকারের অন্ধ সমর্থকও নয় । আজাদ কাগজ সকল সময়ই কিছু কিছু সংবাদ বহন করে। মতের মিল না থাকতে পারে, সংবাদপত্র কেন সংবাদ দিবে না। বিকাল পর্যন্ত কাগজই পড়লাম । এখন একমাত্র চিন্তা কর্মীরা নেতা ছাড়া আন্দোলন চালাইয়া যেতে সক্ষম হবে কিনা! আমার বিশ্বাস আছে আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের নিঃস্বার্থ কর্মীরা, তাদের সাথে আছে । কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতা—যারা সত্যই শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করে তারাও নিশ্চয়ই সক্রিয় সমর্থন দেবে । এত গ্রেপ্তার করেও এদের দমাইয়া দিতে পারে নাই। ৭ই জুন হরতালের জন্য এরা পথসভা ও মিছিল বের করেই চলেছে । পোস্টার ছিঁড়ে দিলেও নতুন পোস্টার লাগাইতেছে, প্যামফ্লেট বাহির করছে। সত্যই এতটা আশা আমি করতে পারি নাই ।

বিকাল বেলা বাইরে বসেই চা খেয়ে নিলাম। তারপর স্বাস্থ্যরক্ষার কাজে আত্মনিয়োগ করলাম একটু পরেই আবার বৃষ্টি এল সন্ধ্যার পূর্বে বৃষ্টি বন্ধ হলো । একটু বাইরে যেয়ে হাঁটাহাঁটি করছি এমন সময় দেখলাম, হাসপাতাল থেকে কে যেন আমাকে সালাম দিতেছে । অনেক দূরে চেনা যায় না । চোখে চশমা ছিল না । তবে ভাবলাম নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের কেহ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছে। চশমা আনতে বললাম । চশমা পরে দেখলাম, আরে এতো আমাদের শাহাবুদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগের

সহ-সভাপতি আমাকে ইশারা দিয়ে দেখাল, পেটে হাত দিল। বুঝলাম পেটের কোনো যন্ত্রণা এবং জ্বর হয়েছে। বেচারা আর কোনোদিন জেলে আসে নাই । এই প্রথম জেল তার মধ্যে আবার অসুখ হলে ভেঙে পড়বে । পরের দিন খবর নিলাম অনেকটা ভাল আছে।

সূত্র : কারাগারের রোজনামচা, পৃষ্ঠা ৬৫-৬৬, লেখকঃ শেখ মুজিবুর রহমান, প্রকাশকালঃ ফাল্গুন ১৪২৩/ মার্চ ২০১৭

পড়ুন আগের পর্ব :

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৪১

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৪০

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩৯

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩৮

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩৫

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩৪

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩৩

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩২

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩১

কারাগারের রোজনামচা : পর্ব-৩০

গ্রন্থনা ও পরিকল্পনাঃ ইয়াসীন হীরা, সম্পাদনাঃ হাসিনা আখতার মুন্নী,এসজিএন