Bnanews24.com
Home » লেজার পার্লারের আড়ালে পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গ রূপান্তর
অপরাধ কভার সব খবর

লেজার পার্লারের আড়ালে পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গ রূপান্তর

লেজার পার্লারের আড়ালে পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গ রূপান্তর

বিএনএ ডেস্ক: লেজার বিউটি পার্লারের আড়ালে পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তর করার অভিযোগে তিন সহযোগীসহ এক ভুয়া সার্জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপারেশনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং হরমোন পরিবর্তনের ওষুধ জব্দ করা হয়। এমনকি অবৈধভাবে ঠোঁট ফোলানো, শরীর ফর্সা করা এবং সিলিকন ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টও করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ডিবি জানায়, ভুয়া সার্জনের নাম হাদিউজ্জামান। তিনি খুলনায় এক সার্জনের সহকারী হিসেবে একসময় কাজ করেতেন। পরে ঢাকায় এসে নিজেই বনে যান সার্জন। রাজধানীর মালীবাগের মাহি হাসান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় স্ত্রীর নামে খুলে বসেন লেজার বিউটি পার্লার। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব করে আসছিলেন তিনি।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, মূলত হাদিউজ্জামানের নেতৃত্বে চক্রটি মানুষের লিঙ্গ পরিবর্তন করতো। হিজড়াদের একটি চক্র ভিক্ষাবৃত্তি ও দল ভারী করতে অন্তত ১০০ জনকে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তর করেছে। পরিবর্তিত লিঙ্গের এসব মানুষ বিভিন্ন জায়গায় হিজড়া সেজে চাঁদাবাজি ও ভিক্ষাবৃত্তি করে বেড়ায়। গত পাঁচ বছর ধরেই চক্রটি খুলনা ও ঢাকায় এই অপরাধ করে আসছিল।

শনিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, চক্রের প্রধান হাদিউজ্জামান রহমান আর তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার তার সহযোগী। তাদের অপকর্ম নিশ্চিত হয়ে এই দম্পতির দুই সহযোগী নুর ইসলাম ও জনি আহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ভুয়া সার্জন হাদিউজ্জামান গ্রেফতারের পর জানায়, তিনি খুলনায় এক সার্জনের সহযোগী ছিলেন। সেখানে পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত করা হতো। সেখানে কাজ শিখে ঢাকায় চলে আসে তিনি। এরপর ঢাকায় এসে পার্লারের আড়ালে তিনি নিজেই সার্জন সেজে এই ব্যবসা শুরু করেন। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া এই চক্রের আর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধ সব চীন থেকে নিয়ে এসেছে চক্রটি।

হাদিউজ্জামান গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা তৃতীয় লিঙ্গে গুরু মায়েদের সঙ্গে অনেক পুরুষের সখ্যতা রয়েছে। এই সখ্যতা গড়ে ওঠার পর ওই সব পুরুষদের নিজেদের দলে রাখতে অফার দেন গুরু মা। এজন্য তাদের সার্জারি বা অপারেশন করতে বলেন। এ পর্যায়ে তারা হাদিউজ্জামানের ঠিকানা দেয়। মালিবাগের এই পার্লারে আসার পর পুরুষদের শরীরে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। এরপর তাকে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয় এবং এক পর্যায়ের অপারেশন করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হাদিউজ্জামান জানান, সার্জারির আগে হরমোন প্রয়োগ করে তাদের নারীসুলভ শরীর করা হয়। এরপর সার্জারি করা হয়। এসব সার্জারি তিনি নিজেই করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

ডিবি জানায়, চক্রটি শতাধিক মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বিএনএ/ এ আর