দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক হেনস্থা

বিএনএ, সাভার: ঢাকার ধামরাইয়ে কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল মতিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ও ভিডিও চিত্র ধারণ করায় দৈনিক করতোয়া পত্রিকার প্রতিবেদক এম শাহীন আলমসহ কয়েকজন সংবাদকর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে নকল নবিশ পারুল আক্তার ও সাত্তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

আরো পড়ুন

“আবার আসিব ফিরে বর্ণিল এই প্রাঙ্গণে “

মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারীর মৃত্যু

আধিপত্য ও স্বামী-স্ত্রীর (সাত্তার-পারুল) সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে বহিরাগতদের দিয়ে পাহারায় রাখা হয় সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়। পাহারা দেয়ার চিত্র ধারণ করায় সাংবাদিকরা মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে এ হেনস্থার শিকার হন। শুধু তাই নয় সাংবাদিকদেরও ক্যামেরা ও এনড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও চিত্র ডিলেট করেও ফেলে ওই সিন্ডিকেটের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা।

সাংবাদিক শাহিন আলম বলেন, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর দৈনিক করতোয়া, দৈনিক কালবেলাসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে সাব-রেজিস্ট্রারের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সাব রেজিষ্ট্রার স্বামী সিন্ডিকেট (সাত্তার ও পারুল) আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আমরা কয়েকজন সাংবাদিক ফলোআপ নিউজের জন্য মঙ্গলবার এ অফিসে এসে অনিয়ম দুর্নীতি ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের ভিডিও ফুটেজ নেই। এরই জের ধরে তারা আমাদের হেনস্থা ও মোবাইল ফোন ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ধ্বংস করে ফেলে।

আমিসহ ৪জন গণমাধ্যম কর্মী সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যাই রেকর্ড রুমে বহিরাগত ও পাবলিকের আনাগোনার বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে। সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল মতিনকে ওই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এর আগেও আপনি রিপোর্ট করেছেন আমার বিরুদ্ধে।
আপনি আবার আসছেন এই কথা বলতেই নকল নবিশ পারুল আক্তার ও তার স্বামী আব্দুল সাত্তার আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করে দেয় এবং আমিসহ আরও ৩জন সংবাদকর্মী হেনস্থার শিকার হই।
এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত নকল নবিশ আব্দুস সাত্তার বলেন, সাংবাদিকরা কারও কোন প্রকার অনুমতি না নিয়েই রেকর্ড রুমে অনধিকার প্রবেশ করে ভিডিও করছিলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে অফিসের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও সামান্য ধাক্কাধাকি হতে পারে। আমি খবর পেয়ে আসছি পরে। তাই আমি এসব কিছুই দেখিনি বা বলতে পারবো না। আমি এসে দেখি ধামরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. হিমায়েত কবির মতিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র ডিলেট করেছেন।

রেজিস্ট্রার আব্দুল মতিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে কি সংবাদ ছাপা হয়েছে তা নিয়ে আমার কোন ক্ষোভ নেই। কারও অনুমতি না নিয়েই অফিসের রেকর্ড রুমে গিয়ে ছবি তোলায় অফিসের স্টাফরা তাদের ভিডিও করতে নিষেধ করেন। এরপরও তারা ভিডিও করতে থাকলে তাদেরকে ডেকে আমার কাছে আনা হয়। এরপর আওয়ামীলীগ নেতা হিমায়েত কবির মতিন তাদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিও ডিলেট করেন।

এব্যাপারে আওয়ামীলীগ নেতা হিময়েত কবির মতিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে যাতে কোন বাড়াবাড়ি না হয় সেজন্য আমি মধ্যস্থতা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছি।
বিএনএ/ ইমরান খান, ওজি