29.9 C
আবহাওয়া
৯:২৬ অপরাহ্ণ - জুলাই ২৪, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ‘বাবা লোকনাথ পাঠিয়েছেন’—ভক্ত সেজে বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিল প্রতারক

‘বাবা লোকনাথ পাঠিয়েছেন’—ভক্ত সেজে বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিল প্রতারক


বিএনএ, চট্টগ্রাম : ‘জয় বাবা লোকনাথ’ বলে ভক্ত পরিচয়ে বাসায় প্রবেশ। এরপর ‘শনির দশা’ কাটানোর কথা বলে নানা কৌশলে পরিবারের বিশ্বাস অর্জন। একপর্যায়ে স্বর্ণালংকার ‘পবিত্র পুটলিতে’ বেঁধে দেওয়ার পর পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

পরে দুই ঘণ্টা পর পুটলি খুলে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান—ভেতরে স্বর্ণ নেই, রয়েছে পাথর ও পয়সা! এমন অভিনব প্রতারণার ঘটনায় সরোয়ার সরদার (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে খুলশী থানাধীন আমবাগান আবহাওয়া অফিসের দক্ষিণ পাশে অজিত ঘোষ (৬০) নামে এক ব্যক্তির বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় সরোয়ার সরদার বাসার সামনে গিয়ে কলিংবেল চাপেন। দরজা খোলার পর ‘জয় বাবা লোকনাথ’ বলে দুই হাত জোড় করে নিজেকে নারায়ণগঞ্জের বারদী এলাকার শ্রী লোকনাথ মন্দিরের ভক্ত হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। একপর্যায়ে দাবি করেন, ‘লোকনাথ বাবা’ তাকে ওই বাসায় পাঠিয়েছেন।

পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, তাদের ‘শনির দশা’ রয়েছে এবং তা কাটাতে হবে। প্রথমে ১১ টাকা চান তিনি। অজিত ঘোষ টাকা দিলে কিছুক্ষণ পর তা ফেরত দেন। এরপর ৫০০ টাকা এবং পরে ১ হাজার ১০০ ও ৪ হাজার টাকা চান। প্রতিবারই টাকা নিয়ে কিছুক্ষণ পর তা ফেরত দিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস অর্জন করেন ওই ব্যক্তি।

এরপর প্রতারক একটি কাগজে সোডিয়াম রেখে আগুন জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যদের আরও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি দাবি করেন, ‘লোকনাথ বাবা’ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং গৃহকর্ত্রীর স্বর্ণালংকার দিতে বলেছেন।

সরল বিশ্বাসে পরিবারের সদস্যরা তিন জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, স্বর্ণের সিতা হারের অংশ, পাথরযুক্ত স্বর্ণের লকেট ও গলানো স্বর্ণ তার হাতে তুলে দেন। সরোয়ার এসব স্বর্ণ একটি পুটলিতে বেঁধে পরিবারের সদস্যদের হাতে দেন এবং দুই ঘণ্টা পর তা খুলতে বলেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এর আগেই কৌশলে পুটলি থেকে স্বর্ণ সরিয়ে ফেলেন তিনি। পরে একই রকম আরেকটি পুটলিতে পাথর, পয়সা ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে পরিবারের সদস্যদের হাতে দেন। এরপর বাড়ির কর্তা অজিত ঘোষকে ৫১টি দূর্বাঘাস আনতে বাইরে পাঠান সরোয়ার। তার ছেলেকে বেনসন সিগারেট ও পান আনতে পাঠিয়ে পরিবারের দুই পুরুষ সদস্যকেই কৌশলে বাসার বাইরে বের করে দেন। পরে বাড়ির নারীদের দুই ঘণ্টা পর গোসল করে পুটলি খুলতে বলেন তিনি। এ সুযোগে কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান।

দুই ঘণ্টা পর পুটলি খুলে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, সেখানে কোনো স্বর্ণ নেই। রয়েছে পাথর ও পয়সা। পরে এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই অভিযান শুরু করে খুলশী থানা পুলিশ। সিএমপি খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি থানাধীন হাজারী গলি এলাকা থেকে সরোয়ার সরদারকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সরোয়ার সরদারের হেফাজত থেকে তিন জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, স্বর্ণের সিতা হারের অংশ, পাথরযুক্ত স্বর্ণের লকেট, গলানো স্বর্ণ, দুটি স্মার্টফোন, ১৪ হাজার টাকা এবং একটি মেরুন রঙের ছাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন প্রায় ১ ভরি ৮ আনা ৫ রতি ৭ পয়েন্ট বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে খুলশী থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯ ও ৪২০ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি মোজাম্মেল হক।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ