31 C
আবহাওয়া
৩:৪৭ অপরাহ্ণ - আগস্ট ১৬, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » কুষ্টিয়ার স্বঘোষিত ‘প্রধানমন্ত্রী’র গাড়িতে হামলা ! ২৪ ঘণ্টাতেই পতন?

কুষ্টিয়ার স্বঘোষিত ‘প্রধানমন্ত্রী’র গাড়িতে হামলা ! ২৪ ঘণ্টাতেই পতন?


বিএনএ, কুষ্টিয়া: গত ১৪ আগস্ট  জামায়াতে ইসলামীর কুস্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা অহংকার করে বলেছিলেন—‘কুষ্টিয়া সদরে আগামী ৫ বছর আমিই প্রধানমন্ত্রী!’ আর ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা পর, ১৫ই আগস্টের পড়ন্ত বিকেলে সেই স্বঘোষিত ‘প্রধানমন্ত্রীর’ গাড়িবহর ধুলোয় মিশে গেল! সেই সঙ্গে চুরমার হলো তার ক্ষমতার দম্ভ!

YouTube player

স্থান—কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়। সময়—বিকেল পৌনে ৬টা। গণঅধিকার পরিষদকে ‘দুইজনের দল’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার জবাব দিতে রাস্তায় নেমেছিল দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। ঠিক তখনই সেই পথ দিয়ে পার হচ্ছিল জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিলাসবহুল গাড়ি। কিন্তু নাটকের টুইস্ট অন্য জায়গায়—এমপির গাড়ির ঠিক সামনেই ছিল সদর থানার ওসির গাড়ি! অর্থাৎ, পুলিশের সামনে এমন লঙ্কা কান্ড ঘটেছে।

“মুহূর্তের মধ্যে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে স্লোগান উঠল। আর তারপরেই—ধুমধাড়াক্কা! হকি স্টিক, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেলের বৃষ্টি নামল এমপির গাড়ির ওপর। খোদ এমপি আমির হামজার কপাল ফেটে রক্তারক্তি! পা কাটল তার চাচার। পুলিশের চোখের সামনেই স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর দুর্গ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল!”

“কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়! মাগরিবের আজান শেষ হতে না হতেই মাঠে নামল জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। লাঠিসোঁটা আর ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে তারা গুড়িয়ে দিল গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়! আমির হামজার সরাসরি হুঙ্কার—‘আমার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে, আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব!’

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেছেন “আমাদের দল নিয়ে এমপি আমির হামজা যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদে আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। এমপির গাড়ি আসার সাথে সাথেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমাদের জেলা কার্যালয় এবং সেক্রেটারির ব্যক্তিগত অফিস ভাঙচুর করেছে।এ সময় আমাদের ৮-১০ জন নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।

 

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “আমির হামজা গণঅধিকার ও আমাদের নিয়ে আপত্তিকর কথা বলায় গণঅধিকার পরিষদ প্রতিবাদ সমাবেশ করছিল। জামায়াত যে অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন, গণঅধিকারের সাথে  বিরোধের দায় তারা এখন বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক  বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের কোনো জনভিত্তি নেই। তারা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বহিরাগত লোক জড়ো করে পুলিশের উপস্থিতিতে এমপির গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, যেখানে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। জামায়াত কর্মীরা প্রথমে আক্রমণ করেনি, তারা কেবল আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ করেছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকা থমথমে থাকায় এবং পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ টহল জোরদার করায় গণঅধিকার পরিষদের অভিযুক্ত অনেক নেতাকর্মীই বর্তমানে এলাকাছাড়া বা আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট এজাহার ও ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ