Bnanews24.com
কভার বৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃহত্তর চট্টগ্রাম রাজনীতি সব খবর

পাপুলের বিদায়ে কার ভাগ্য খুলছে?

পাপুলের বিদায়ে কার ভাগ্য খুলছে?

বিএনএ, ঢাকা : কুয়েতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। এদিকে তার বিদায়ে আসনটি শুন্য হওয়ায় এখন দেখার বিষয় নতুন করে কার ভাগ্য খুলছে? নতুন করে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নাকি জাতীয় পার্টি থেকে নতুন সাংসদ আসবে সেটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

লক্ষীপুর-২ আসন থেকে সদ্য পদচ্যুত পাপুলের সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়াটা ছিল উড়ে এসে জুড়ে বসার মত। পাপুল মূলত আলোচনায় আসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে। অর্থের বিনিময়ে মহাজোট প্রার্থীকে বসিয়ে দিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নির্বাচনকে টার্গেট করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনে স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক অনুদান দেয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে সর্বমহলে দানবীর ও ধনকুবের হিসেবে পরিচিতি করাতে সক্ষম হন।

মানব পাচারে জড়িত পাপুল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইলেও পাননি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এই আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পার্টির তৎকালীন সাংসদ নোমান হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান। তখন অভিযোগ ওঠে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান নোমান। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থনপুষ্ট হয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে জয়লাভ করেন পাপুল। এর কিছুদিন পর তার সহধর্মিণী সেলিনা ইসলাম স্বতন্ত্র কোটায় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মাদ শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। কুয়েতের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরপরই ২৮ জানুয়ারি তার পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক এখন নির্বাচন কমিশন আসনটিতে উপ- নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে।

২০১৮সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদরের একাংশ) আসন থেকে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেন ১৮ জন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, কুয়েত আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল, কেন্দ্রীয় যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ম্যাকসন্স গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আলী খোকন, বিএমএ কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ডা. এহসানুল করিম জগলু, লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়াম লীগের সাবেক যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাদের, ব্যাবসায়ী ও সৌদি প্রবাসী গোলাম ফারুক ভূইয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক গাজী জহির , জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল হুদা পাটওয়ারী, আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, অ্যাভোকেট সালাহউদ্দিন রিগ্যান , রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুল পাঠান, সাঈদুল বাকিন ভূইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কাসেম।

ধারণা করা হচ্ছে, এরা আবার সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করবে। এদের মধ্যেই কার ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে এবার নাকি নতুন কেউ আসছে এটাই দেখার বিষয়। নাকি উপ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় কি না তাও আলোচ্য বিষয় রয়েছে।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম, এসজিএন।