28 C
আবহাওয়া
৪:২৭ অপরাহ্ণ - মে ২৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ রেফাত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান!

ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ রেফাত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান!


বিএনএ, ঢাকা : দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছেন। উপদেষ্টারা সেইফ এক্সিট নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন এমন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। তার আলামত এখন স্পষ্ট।

নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সরকারের মধ্যে থাকা দলীয় লোকদের অপসারণ এবং  অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকে  তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপ দিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে এ কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রসঙ্গত, গত ২৭শে আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়, পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

মঙ্গলবার থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে করা একাধিক আপিল আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।

এদিকে প্রবাসে অবস্থান করা সাংবাদিক ও উপস্থাপিকা নবনীতা চৌধুরী  তার  বয়ান অনুষ্ঠানে দাবি করেন, ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত ড. ইউনূস সরকার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথা ছাড়াই গঠিত হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে এই পরামর্শ দেওয়া হয় যে, আদালত যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সে হিসেবে আমেরিকার তরফে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ রেফাত আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে দাবি করে নবনীতা বলেন, ১৪ আগস্ট মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন সরাসরি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করে এই বিষয়ে আলাপ করেন।

সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী  দাবি করেন, আগস্ট মাসের শেষে এসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে ওঠে। তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ। আগস্ট মাসেও কিন্তু ড. ইউনূস সরকার শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দেবেন কিনা ফেব্রুয়ারিতে— তা নিয়ে সংসয় ছিল।

 

তিনি জুলাইজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন তরফের চাপের মুখে এবং সরাসরি তাদের পরামর্শে ৫ আগস্ট প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন। কিন্তু  রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভরসাটা পাচ্ছিল না। ‘‘ফলে নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন হবে, যে সরকারকে জামায়াতে ইসলামী-বিএনপি সহ সকল দল গ্রহণযোগ্য মনে করবে।

নবনীতা বলেন,  আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলে বুঝতে হবে, বিএনপি-জামায়াত-বিদেশী পক্ষ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো এবং তাদের যে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আছেন, তারা নির্বাচনের আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়।

নবনীতা চৌধুরীর এই বয়ানের ১২ ঘন্টার মধ্যে মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের  সঙ্গে দেখা করে বিএনপির মনোভাব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ই অক্টোবর ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে নরম ভাষায় কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কন্টিনিউয়াস  সমর্থন আপনার প্রতি ছিল, আছে। কিন্তু এটা কন্ডিশনাল । আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে, এটা সীমাহীন নয়। আমরা চাই আপনার নেতৃত্বে একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন, এটাই হচ্ছে কন্ডিশন। আপনার প্রতি আমাদের সীমাহীন সমর্থন নয়, আমাদের সীমারেখা আছে। আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই সীমারেখার মধ্যে আপনাকে সমর্থন দিচ্ছি। আপনি দয়া করে এটা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।’

সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ফিরে আসছে। সেই সূত্রে প্রধান বিচারপতি ড.  সৈয়দ রেফাত আহমেদ হবেন নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। তিনি আগামী ডিসেম্বরে অবসরে যাচ্ছেন। এর আগেও তিনি  অবসরে যেতে পারেন।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়া হবে। রাষ্ট্রপতি হতে পারেন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এমনটাই মনে করেন  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

বিএনএনিউজ/ সৈয়দ সাকিব/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ