Bnanews24.com
মন্তব্য প্রতিবেদন

ফেসবুকে বাঙ্গালীর ভাষা চেতনা, মুজাক্কিরের রক্তে রক্তাক্ত একুশ

বোরহান উদ্দীন মুজাক্কির

।। এনামুল হক নাবিদ ।। শহীদ মিনারে নেতা কর্মীদের বহর নিয়ে ফুল দেওয়া, তারপর ছবির পর্ব। অত:পর দেয়া হয় ফেসবুকে পোস্ট আপলোড । তারপর লাইক,কমেন্টস শেয়ারে সরগরম নেতা,আমলা,পেশাজীবী, সমাজসেবীদের টাইলাইন । একাত্তরের কথা আপাতত পরে হোক। একুশ নিয়ে বাঙ্গালীর ফেসবুকে চলছে একুশ চেতনা। বর্তমান অবস্থায় একুশ মানে হচ্ছে এই নিয়ে ফেসবুকীয় বাঙ্গালীর ভাষা চেতনা। (একুশে ফেব্রুয়ারি)’র দিন পেশাগত কারণে উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গিয়েছি। লক্ষ্য করলাম তরুণ -তরুণীদের মাথায় স্টিকার, গায়ে লাল সবুজের জামা, কি যে চেতনার ভাস্বর। সাথে ট্রাকভর্তি সাউন্ড লাগিয়ে হিন্দি গানের উম্মা ডান্স । এই হল আমাদের বাঙ্গালিয়ানা।

আসলে সত্যি বলতে চেতনা মানে আমরা বুঝি পোশাক পরিচ্ছেদ গান আড্ডা এই গুলি। না হয় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে যারা মায়ের ভাষা রক্ষা করেছে বিশ্ব দরবারে ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে মায়ের ভাষার জন্য আমরা কতটা আপোষহীন ছিলাম। আর আজ সেই শহীদদের কথা বাদ দিয়ে উল্টো আমরা এমনি একটা দিনে প্রমাণ করতে চাচ্ছি নিজেদের কে বাঙ্গালি হিসেবে আমরা কতটা চেতনাশীল। তাঁদের চাওয়া পাওয়া কি আমাদের কাছে এই ছিল ? আজ বাঙ্গালীদের বাংলার কদর যদি শহীদ জব্বার, রফিক,বরকতরা দেখতে পেত তাহলে আমি হলফ করে বলতে পারি তারা বলত এই হুজুকি বাঙ্গালীদের কাছ থেকে বাংলাকে আরেকবার উদ্ধার করি। ভাবতে অভাক লাগে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমরা ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী ব্যাক্তিদের অস্বীকার করি।

এমনকি জীবনের মায়া ত্যাগকারী এই ভাষা শহীদদের নিয়ে আমরা নোংরা রাজনীতি করি। না হয় শহীদদের বেদীতে ফুল দিতে গিয়ে ভিন্ন মতের লোকদের কেন অপমানের শিকার হতে হয়। ভাষার প্রাণ বলে যাদের কে আমরা বুঝি কবি সাহিত্যিকদের এই দেশে কেন লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। কেন অর্থাভাবে তাদের কে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। এদেশে কেন কবিরা মৃত্যু বরণ করার পর কবি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। একুশ আসলেই আমাদের নেতাদের বেশ বড় বড় ব্যানার দেখতে পাই। আর এই নেতাদের অপরাদের চিত্র যখন জাতির বিবেক সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে অনএয়ার করে জাতির কাছে তাদের কালো চেহারা প্রকাশ করে দেয় তখনি এদেরকে রাঁতের অন্ধকারে চাপাতির আঘাতে নির্মমভাবে খুন হতে হয়। সম্প্রতি নোয়াখালীর ঘটনায় আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা হারিয়েছি আমাদের ভাইকে আর বোরহান উদ্দীন মুজাক্কিরের মা হারিয়েছে নাড়িছেঁড়া ধনকে।

দেখেছি  একটি দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘাতকের বুলেট কিভাবে কেড়ে নিল আমার ভাইয়ের তাজা প্রাণ। যেই ঘাতকদের বুলেটে মোজাক্কির ভাইয়ের প্রাণ কেড়ে নিল তাদের বিচার হবে কিনা জানি না কারণ পেশার খাতিরে নিজ বেড রুমে খুন হওয়া সাগর রুনীর বিচারের যে নয় ছয় হচ্ছে আক্ষেপে সংবাদ কর্মীরা এখন তাদের ভূলে যাওয়া সংমিলিত ফেসবুকে স্টিকার লাগাচ্ছে!! মুজাক্কির ভাইকে নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক সাজেদ ভাই লিখেছেন এ পেশায় অনেক দূর যেতে চেয়েছিলেন বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির। কিন্তু হায়! ঘাতকের বুলেট অকালেই শেষ করে দিলো একটি জীবন, একটি স্বপ্ন। কাঁদতে আসেনি,ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি। একুশ আসলেই নেতাদের মুখে ভাষার চেতনায় মুখে খই ফুটে অপর দিকে তাদের নোংরা রাজনীতির কারণে আমার ভাই মুজাক্কিরের রক্তে ২১ ফের রক্তাক্ত হলো।

আমাদের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন হয়েছিল যে এই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। এই প্রেক্ষাপট হয়ত আজ আমাদের অনেক তরুন প্রজন্মের কাছে অজানা। কারণ আমাদের প্রয়োজনে আমরা ইতিহাস কে খন্ড বিখন্ড করি। যে ভাষাকে কেন্দ্র করে আমরা ইতিহাসের অংশ সে ভাষাকে আমরা আগলে রাখতে কতটা উদাসীন তা আজ বলাই বাহুল্য। টকশোতে গলা ফাটাই অপরদিকে ভাষার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের নাম মুখে নিতে আমাদের লজ্জায় মুখ কেটে যায়। কী পরিমাণ হিনমন্যতায় থেকে এসব টকশোবাজরা ভাষার চেতনার ফেরীওয়ালে সেজে থাকে বুঝার আর বাকী থাকেনা। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এই ভাষাতেই আমাদের অস্তিত্ব। এই ভাষার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে আমাদের প্রথম পরিচয়। তাই ভাষার মাসে দুঃখ নিয়ে বলতে হয় এই ভাষা আমাদের অহংকার, এই ভাষাই আমাদের অস্তিত্ব। এই ভাষা হেলা ফেলার জন্য নয়। কারণ এই একুশ মানেই আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। পরিশেষে সবার নিকট একটি কথা বলি, যদি দায়িত্বানুভূতি কি আমরা জানতে পারতাম তাহলে বাঙ্গালী হিসেবে আমরা আরো উন্নত শিকড়ে আরোহন করতে পারতাম। আসলে সব কিছু চেতনা দিয়ে হয়না, থাকতে হয় হৃদয় নিংড়ানো এক টুকরো ভালোবাসা। ভাষার মাসে প্রিয় ভাষা শহীদ, ভাষার জন্য আত্বত্যাগকারী সকল ভাষা সৈনিকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং আমাদের প্রিয় ভাই শহীদ বোরহান উদ্দীন মুজাক্কিরের আত্বার শান্তি কামনা করছি সেই সাথে নরঘাতকদের বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী,

আনোয়ারা প্রতিনিধি: দৈনিক মানবজমিন

[email protected]