Bnanews24.com
এক নজরে চট্টগ্রাম সংগঠন সংবাদ সব খবর

কৃষি জমি বাঁচাতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

কৃষি জমি বাঁচাতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

বিএনএ, আনোয়ারা: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় তিন ফসলি জমি বাঁচাতে মানববনন্ধন করেছে স্থানীয়রা। ইতি মধ্যে তাদের বাপ-দাদা পূর্ব পুরুষের কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে সরকারী বেসরকারি ভাবে গড়ে উঠছে শিল্প, কল-কারখানা। কৃষি জমির পরিবর্তন করে অকৃষি খাতে ব্যবহারের ফলে কৃষকদের পরিবারে নেমে এসেছে হতাশা। কৃষি জমি গিলে খাচ্ছে সরকারি বেসরকারি কলকারখানা।এছাড়াও নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করতে তিন ফসলি কৃষি জমি রক্ষায় মানববন্ধন করেছে কৃষক ও স্থানীয়রা ।

সরকারের কাছে তাদের দাবি তিন ফসলি জমিতে কলকারখানা চাইনা-খাবার চাই ফসলী জমির বিকল্প নাই’।‘ফসলী জমি ধ্বংস করে কলকারখানা নির্মাণের অশুভ চক্রান্ত রুখে দাঁড়াও জনগণ’, নয় খাবার চাই, ফসলী জমির বিকল্প নাই’,‘বাপ-দাদার তিন ফসলী জমি লুটে নিতে দেওয়া হবে না। ফেস্টুনে তুলে ধরে ফসলী জমিতে মানববন্ধন করেন তারা।

বুধবার(২১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকায় শত শত মানুষ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে।
বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া মৌজার প্রায় ৪০ একর তিন ফসলী জমি রয়েছে একটি মাঠে। মাঠের আশপাশে কৃষকদের বাড়ী ঘর। কৃষি নির্ভর এই এলাকার মানুষ সারাবছর এই জমিতে ধান, ডাল, মৌসুমী সবজি খেয়ে বাঁচে। নিজের খেতে চাষ করা ফসলে সারা বছর তাদের সংসারের চাহিদা পূরণে করে আনন্দে কেটে যায়। সেই ৪০ একরের মধ্যে ৩৩ একর জমি উপজেলা প্রশাসরের কাছে পি.জি.সি.বি. নামে একটি কোম্পানি জমি অধিগ্রহণের চিঠি ইস্যু করেন।এদিকে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৃষক পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।

বাপ-দাদার কৃষি জমি হারিয়ে কৃষি পেশা ছেড়ে এখন তারা পরিবার নিয়ে খাবে কি? এ প্রশ্নের উত্তর দেন জানা নেই। এই ৩৩
একর জমির শত শত কৃষক জমির মালিক, এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা মিলে মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই অন্যায়ভাবে ফসলি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া কার্যক্রম পরিবর্তনের দাবি জানান। ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম চৌধুরী বাবুল, বারশত ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মাদ, এ এ কাইয়ুম, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ আবু তালেব,মোহাম্মদ মিয়া, মাসুদ চৌধুরী, আনিসুর রহমান, জালাল আহমেদ, সিবিএ নেতা আবুল বসর।

ভূমি অধিগ্রহণ প্রতিরোধ কমিটির দায়িত্বশীল ফজলুল করিম চৌধুরী বাবুল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি জমি নষ্ট করে কোন স্থাপনা করা যাবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি কুচক্রী মহল তিন ফসলি জমি নষ্ট করতে ওঠে পড়ে লেগেছে। কৃষি জমি রক্ষ করে উন্নয়ন কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুধকুমড়া মৌজায় অনবাদী জমি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রিজার্ভ রয়েছে। সেখানে জমি অধিগ্রহণ করলে আমাদের জমি রক্ষা পাবে পাশাপাশি আমরাও সরকারকে সহায়তা করবো।
আমরা আমাদের ফসলি জমি রক্ষায় আমাদের অভিভাবক ভূমি মন্ত্রীর সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিএনএ/ এনামুল হক নাবিদ,ওজি