বিএনএ,ডেস্ক : কুষ্টিয়া ৩ সদর আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে উপস্থাপন করেন। প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে এমন বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। আমির হামজার কুশপুত্তলিকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা জুতা নিক্ষেপ করেছে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটা ইতর প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এমন অশালীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামি বক্তার কাছ থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না। আমির হামজার বক্তব্য উসকানি ও চক্রান্তমূলক দাবি করে তা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন।
পাবনা ও ঝিনাইদহে মুফতি আমির হামজাকে অবাঞ্জিত ঘোষণা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় মহিলারা ঝাড়ু মিছিল করেছে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন সোলাইমান চৌধুরী। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর বাড়ি গাজীপুর জেলায়। রোববার কুষ্টিয়া চিফ জুডিশিয়াল আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। তবে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি
এদিকে দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় আমির হামজা বলেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো সাহেবকে নিয়ে আমার দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সেই সময়ই একটি বিষয় বুঝাতে যেয়ে উদাহরণটা দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম।
তবে আমির হামজার ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করার পর নেটিজেনদের কমেন্টে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। ভয়েস অব কুষ্টিয়া নামে একটি আইডি থেকে লেখা হয়—‘সারা জীবন তুমি ভুল করো আর ক্ষমা চাও! জীবনে মানুষ তওবা কয়বার করে?’
মুফতি আমির হামজা তার বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন হলেও, প্রধানত ৩টি বড় ঘটনার প্রেক্ষিতে তার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
ভারতীয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমা চান এবং জানান যে উদাহরণ হিসেবে নায়িকার প্রসঙ্গ টানা তার ভুল ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘মদ দিয়ে কুলি করা’ সংক্রান্ত আপত্তিকর মন্তব্যের পর তিনি ২০২৫ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন যে ভবিষ্যতে আর কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলবেন না এবং শুধু কোরআনের তাফসির করবেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্যের কারণে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল । তার নিজ দল জামায়াতে ইসলামীও তাকে অসংলগ্ন বক্তব্যের জন্য একাধিকবার সতর্ক করেছে।
এদিকে আমির হামজাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমির হামজা লেখেন, ‘একটু জানিয়ে রাখি– বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ। আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো, আমার অনুপস্থিতিতে কুষ্টিয়াতে যেই ইনসাফ কায়েমের লড়াই আমরা শুরু করেছি, সেটা প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং আমার তিন শিশু কন্যাসন্তানকে একটু দেখে রাখবেন।’
প্রসঙ্গত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে আগে শুরা সদস্য ফরহাদ হুসাইনকে প্রার্থী করার কথা থাকলেও পরে আমির হামজাকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু তার একের পর এক বিতর্কের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আমির হামজার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভোট বাড়ানোর কৌশল জামায়াতে ইসলামী নিয়েছিল। কিন্তু তা এখন হিতে বিপরীত হয়েছে। আমির হামজার হাস্য রসাত্বক বিতর্কিত রম্য মন্তব্যের কারণে তা এখন জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি বড় “বোঝা” বা বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

