বিএনএ, বিশ্বডেস্ক : চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় শুরু করা হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সি একজন কিশোর রয়েছে। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী ও নয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা সম্পন্ন করেছে। এই হামলায় যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এসব হামলা চালানো হয়। ১৭ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় (জিএমটি ১৮ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিট, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টা) এই হামলা শেষ হয়।
পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরানের সামরিক বাহিনী কুয়েত এবং জর্ডানে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কিছু মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
ইরানে হামলার শিকার হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি। সেখানকার একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটির সদর দফতর, গোলাবারুদ ডিপো এবং সংযোগকারী সেতুগুলোতে আঘাত করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই থেকে তিন দিন হামলা চালিয়ে গেলে ‘পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক পর্যায়ে’ প্রবেশ করবে ইরান। তখন শুধু পাল্টা হামলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না তেহরান। আক্রমণ থেকে তখন কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনএ/ওজি
![]()

