বিএনএ, ডেস্ক : জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানের বাবা শফিউল আলম প্রধান ১৯৭৩-৭৪ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শফিউল আলম প্রধানের বাবা অর্থাৎ রাশেদ প্রধানের দাদা মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধান ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি । এছাড়া তিনি অবিভক্ত পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৪ সালের ৪ঠা এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সেভেন মার্ডার’ এর প্রধান আসামি ছিলেন রাশেদ প্রধানের বাবা শফিউল আলম প্রধান। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজাও পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ ক্ষমা পেয়ে কারামুক্ত হন শফিউল আলম প্রধান। কারামুক্তির পর তিনি রাজনীতির ধারায় ফিরে আসেন এবং ১৯৮০ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) গঠন করেন।

পরবর্তীতে শফিউল আলম প্রধান বিয়ে করেন অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানকে । তাদের দুই সন্তান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এবং প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান। বর্তমানে রাশেদ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র। জিয়াউর রহমান শফিউল আলম প্রধানকে মুক্তি না দিয়ে মৃত্যুদন্ড দিলে রাশেদ প্রধানের জন্ম হতো না। আর জামায়াত- এনসিপির সঙ্গে জোট বেঁধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘কুলাঙ্গার’ সন্তান বলে মন্তব্য করার সুযোগ পেতেন না এমনটা বলছেন বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রাশেদ প্রধান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আবারও একটি গণ অভ্যূত্থান হবে। শেখ হাসিনার চেয়ে বাজে পরিণতি হবে তারেক রহমানের । সেটা সরকারও বুঝে গেছে, সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাঙ্কার তথা সুরঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধানের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিবাদে পঞ্চগড়সহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। পঞ্চগড়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে রাশেদ প্রধানকে। পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয়ের বাহিরের টিনের বেড়া ও কার্যালয়ের ভেতরে রাখা কয়েকটি চেয়ার–টেবিল ভাঙচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা।
প্রসঙ্গত, একদা বিএনপির ২০ দলীয় জোটের শরিক ছিল রাশেদ প্রধানের দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি( জাগপা)। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। এর পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করেন এবং পঞ্চগড়-১ আসন থেকে মনোনয়নের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রার্থীতা চুড়ান্ত করার সময় জামায়াত ইসলামী আসনটি এনসিপির উত্তরাঞ্চল সমন্বয়ক সারজিস আলমকে ছেড়ে দিলে বাদ পড়ে যায় রাশেদ প্রধান। তবুও জামায়াত ইসলামীর লেজুড় হয়ে নির্বাচনের আগে পরে তিনি বিএনপির কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন ।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশেদ প্রধান জামায়াতে ইসলামীর একজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি রাশেদ প্রধানের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের পর তাঁর বাসভবনে হামলা বা মব সৃষ্টির ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই হামলার প্রতিবাদে বিবৃতিও দিয়েছেন।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

