সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর পূর্তি আজ

বিএনএ ডেস্ক: দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর পূর্তি আজ। ২০০৫ সালে ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ(জেএমবি)নামে একটি জঙ্গি সংগঠন।মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় ৫শ পয়েন্টে বোমা হামলায় দু’জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন নীরিহ মানুষ আহত হন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় ঘটনা।

পুলিশ সদর দফতর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারাদেশে ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি। ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি।

যারমধ্যে ১৪২টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিল ১৩০ জন।গ্রেফতার করা হয় ৯৬১ জনকে। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। নিস্পত্তি হওয়া বাকি মামলাগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে আট আসামির।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও  জেএমবির বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রেফতার হওয়া  জঙ্গিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) গঠিত হয়। মূলত জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা আমির শায়খ আবদুর রহমান গ্রেফতারের পর তখন তার জবানবন্দিতে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশকে ৬ টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে  কার্যক্রম শুরু করে তারা। পরে  দাওয়াত ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে  সংগঠনের প্রচার প্রচারণা শুরু করা হয়। এভাবেই সারাদেশে  কর্মী সংগ্রহ শুরু করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি।বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় তাদের কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের অভিযানে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর অন্তত ৮০ সদস্য নিহত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয় প্রায় ২ হাজার জনকে। বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর মতো শক্তি উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর আর নেই।

তবে, উগ্রবাদ দমনে অভিযানের পাশপাশি সমন্বিত সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগও জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বিএনএনিউজ/আরকেসি