Bnanews24.com
করোনাভাইরাস টপ নিউজ প্রশাসন সব খবর

করোনায় মারা গেলেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৪ কর্মকর্তা

করোনায় মারা গেলেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৪ কর্মকর্তা

বিএনএ, ঢাকা : দেশে করোনা ধরা পরার পর গত বছরের ৬ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৪ কর্মকর্তা। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা তিনজন এবং অবসরে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন আরও আট কর্মকর্তা।

সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারে মোট ৬ হাজার ৩২৭ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা।

প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক এবং প্রশাসন ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা জালাল সাইফুর রহমান। ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল মারা যান তিনি।

গেল বছরের ৯ মে মারা যান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গৌতম আইচ সরকার। এদিন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

গত বছরের ২৯ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রতিরক্ষা সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

একই বছরের ২৩ জুন বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমিনুল ইসলামের করোনা শনাক্ত হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই মারা যান তিনি।

গত বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ফখরুল কবীর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জুন মারা যান এই কর্মকর্তা।

১৭ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যোগাযোগ উইংয়ের যুগ্ম প্রধান (যুগ্ম সচিব) মো. লুৎফর রহমান তরফদার। মৃত্যুকালে রহমান তরফদারের বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল (শনিবার) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. এ কে এম রফিক আহম্মদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

সিরাজুল ইসলাম খান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ২৩ নভেম্বর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩ জানুয়ারি মারা যান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সচিব খন্দকার অলিউর রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। খন্দকার অলিউর রহমান বিসিএস ১৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা।

১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) যুগ্ম সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।  তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন যুগ্ম সচিব মো. লিয়াকত আলী (৫৬)। তিনি বিলুপ্ত বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল খায়ের মো. মারুফ হাসান। ১৫ এপ্রিল সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা মারুফ হাসান করোনার উপসর্গ নিয়ে ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এছাড়া যুগ্ম সচিব শামস ই আরা বিনতে হুদা ও সিনিয়র সহকারী সচিব এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা অবস্থায় মারা গেছেন তিনজন কর্মকর্তা। তারা হলেন- অতিরিক্ত সচিব তৌফিকুল আলম, অতিরিক্ত সচিব নূর হোসেন তালুকদার ও যুগ্ম সচিব খুরশীদ আলম।

অবসরে থাকা অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আট কর্মকর্তা। তারা হলেন- সাবেক সচিব বজলুল করিম চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সচিব সামছুল কিবরিয়া চৌধুরী, আ. রশিদ, মোহাম্মদ আলী (৭০ ব্যাচ), ইসহাক ভূইয়া (৭৩ ব্যাচ), সরওয়ারী আলম (১৯৭০ ব্যাচ), ওয়াজেদ আলী খান (৮১ ব্যাচ) ও তপন কুমার সরকার (৮৫ ব্যাচ)।
বিএনএনিউজ/জেবি