31 C
আবহাওয়া
১:৫৭ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ২৫, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » এমন রাজনীতিবিদও আছে?

এমন রাজনীতিবিদও আছে?

এমন রাজনীতিবিদও আছে?

।। সৈয়দ সাকিব ।।

বিএনএ, ঢাকা: রাজনীতিবিদদের সততা নিয়ে যখন সারা বিশ্বে আকাল চলছে তখন সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত দেখালেন পাকিস্তানের এক রাজনীতিবিদ। হাফিজ নাঈম উর রহমান জামায়াত ইসলামী দলের হয়ে হাফিজ নাঈম উর রহমান করাচি শহরের প্রাদেশিক বিধানসভা আসন পিএস-১২৯ এ বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে ইমরান খানের পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন। তাকে কারচুপির মাধ্যমে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন! তিনি এখন তার আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এটি নিছক রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি নাকি রাজনৈতিক সততা তা নানাজনের নানা মত রয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ নাঈম উর রহমান বলেন, যদি কেউ আমাদের অবৈধ উপায়ে জয়ী করতে চায়, আমরা তা মেনে নেব না। জনগণের মতামতকে সম্মান করা উচিত, বিজয়ীকে জিততে দিন, পরাজিতকে হারতে দিন, কেউ যেন অতিরিক্ত কিছু না পায়। হাফিজ নাঈম উর রহমান এমন সময় শব্দ বোমা ফাটালেন যখন ইমরান খানের দল ১৭০ আসন বিজয়ের দাবি করলেন।

পাকিস্তানের জামায়াত ইসলামীর হাফিজ নাঈম উর রহমান বলেন, তিনি ২৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফ বারি ভোট পেয়েছিলেন ৩১ হাজারের মতো। কিন্তু এই সংখ্যা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। দাবি করা হয় সাইফ বারি এগারো হাজারের মতো ভোট পেয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের নির্বাচনকে ঘিরে যতো সংকট দেখা দিয়েছে, আসন ছেড়ে দেওয়ার এ ঘটনাটি আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতো। এর মাধ্যমে নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি এবং অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগটি আবারও সামনে এসেছে। নির্বাচনের এমন অনিয়মের মাধ্যমে ইমরান খানের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআই প্রধান ইমরান গত অগাস্ট থেকে কারাগারে আছেন এবং তার দলকে ব্যালট থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এ কারণে পিটিআই প্রার্থীদের দলীয় ব্যানারের পরিবর্তে স্বতন্ত্র হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। কিন্তু এই বাধা সত্ত্বেও সারা দেশের ভোটাররা অপ্রতিরোধ্যভাবে ইমরান খানের পক্ষে ভোট দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ২৬৬টি আসনের মধ্যে ৯৩টি আসনে জয়লাভ করেছে তারা। যা নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। তবে পিটিআইয়ের দাবি তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের আরও বেশি ভোট এবং আরও বেশি আসন জেতা উচিত ছিল। তারা ভোট কারচুপির অসংখ্য অভিযোগ তুলেছে। পাশাপাশি জামায়াত ইসলামী দলের প্রার্থীর আসন ত্যাগ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্ষণ ক্ষণে ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোন দল সরকার গঠন করবে? কে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তা নিয়ে সৃষ্ট কুয়াশা এখনো কাটেনি। এই রাজনৈতিক অচলায়তন কবে ভাঙ্গবে তা অনিশ্চিত।

প্রসঙ্গত, নারী ও অমুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত ৭০টি আসন থেকেও দলগুলোকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। সাধারণত যে দল যতো বেশি আসন পায় তারা ততো বেশি সংরক্ষিত আসন নিজেদের করতে পারে। এতে তারা সহজেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৯টি আসন অর্জন করতে পারবে। তবে পাকিস্তানের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, এই সংরক্ষিত আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাওয়ার নিয়ম নেই।

পিএমএল-এন এবং পিপিপি পূর্বে একটি জোটে ছিল যার নাম ছিল পিডিএম। ওই জোট ২০২২ সালে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। নওয়াজ শরিফের ভাই শেহবাজ শরিফ সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এবারও তাকে আবার সামনে আনা হয়েছে পাকিস্তানের সম্ভাব্য পরবর্তী নেতা হিসেবে।

ইমরান খানকে সংসদীয় অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ করার পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তাকে তিনটি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

৭১ বছর বয়সী ইমরান খানের দাবি, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তা বানোয়াট এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ইমরান খান নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা এমন শঙ্কা থেকে তার দলকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিএনএনিউজ/ বিএম

Loading


শিরোনাম বিএনএ