বিএনএ,ডেস্ক : দেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে বইছে তীব্র ঝড়! একদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শেখ হাসিনার স্মার্ট কার্ড প্রকল্প নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নতুন সরকারকে “লাল কার্ড” দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অপরদিকে এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সারজিস আলমকে উদ্দেশ্য করে দলটির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল দিয়েছেন এক চরম ওপেন মেসেজ! তিনি সরাসরি বলেছেন, “তোদের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, তোরা বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবি!” কিন্তু হঠাৎ কেন এমন ক্ষোভ? কী ঘটছে এনসিপির ভেতরে এবং দেশের রাজনীতিতে?
শুরুতেই আসা যাক ঢাকার একটি সেমিনারে দেওয়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সেই বিস্ফোরক বক্তব্যে। বুধবার রাজধানীতে এনসিপি আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার’ শীর্ষক একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
সেখানে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ডের নামে দেশের অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন বলেন, এখন আবার নতুন নতুন প্রকল্প আসছে—খাল কাটার প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা সূচনা করেছি, আমরাও কার্ড এনেছি, লাল কার্ড। এগুলো যখন ব্যর্থ হবে আমরা তখন লাল কার্ড দেখাবো।” অর্থাৎ নতুন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ যদি জনগণের ভাগ্য বদলাতে ব্যর্থ হয়, তবে এনসিপি রাজপথে কড়া জবাব দেবে—এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন এই মুখ্য সংগঠক
এই সেমিনারের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আসল বোমাটি ফাটিয়েছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল। বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে ধুয়ে দিয়েছেন তিনি।
নীলা ইসরাফিল লেখেন, প্রিয় সারজিস আলম, তোরা এখন বিরোধী দলে আছিস। কিন্তু মনে রাখিস, বিরোধী দল হিসাবেও তোদেরকে বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না। তোরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবি বাংলাদেশ থেকে। বাস্তবতা মেনে নাও। রাজনীতিতে অবস্থান বদলায়, কিন্তু জনগণের রায়ই শেষ কথা। বিরোধী দলে আছ এটাই বিশাল ব্যাপার, কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জন করাই এখন তোমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফিরবে কি ফিরবে না, সেটা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কিন্তু তোরা থাকবি কি থাকবি না সেটা নিয়ে চিন্তা কর। তোমরা রাজনৈতিকভাবে কতটা টিকে থাকতে পারবা, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এখনই। কারণ জনসমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি টেকে না।
নীলা আরও লেখেন, সময়ের সংকেত স্পষ্ট জনগণ দেখছে, বিচার করছে, এবং মনে রাখছে। রাজনৈতিক উত্থান যেমন বাস্তব, পতনও তেমন বাস্তব আর সেই হিসাব শেষ পর্যন্ত জনগণই মেলায়। তোদের পতনের কাউন্টডাউন অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এখন তার ধ্বনি আরও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। প্রতিটি ভুল সিদ্ধান্ত, প্রতিটি বিভ্রান্তিকর অবস্থান, সেই পতনকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
এখন হুঁশিয়ার হওয়ার সময়। আত্মসমালোচনা করুন, জনগণের কাছে জবাব দিন, এবং মনে রাখুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ শব্দ ক্ষমতা নয়, জনগণই বলে।’
একদিকে জাতীয় নাগরিক কমিটির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলছেন জনগণের টাকা লুটেরাদের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর কথা, অন্যদিকে তাদেরই সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিচ্ছেন পতনের তীব্র হুঁশিয়ারি। এই দুই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন দলগুলোর আভ্যন্তরীণ সমীকরণ কতটা জটিল রূপ নিচ্ছে। জনগণের অধিকার আদায় আর ক্ষমতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে? নতুন দলগুলো কি পারবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে? নাকি সাবেক নেত্রীর দাবি অনুযায়ী আসলেই শুরু হয়ে গেছে কোনো নতুন কাউন্টডাউন?
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

