29 C
আবহাওয়া
৮:০৯ পূর্বাহ্ণ - জুলাই ১৫, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » আনারের নগ্ন ছবি কামাল- মিন্টুর মোবাইলে!

আনারের নগ্ন ছবি কামাল- মিন্টুর মোবাইলে!

আনারের নগ্ন ছবি কামাল- মিন্টুর মোবাইলে!

বিএনএ, ঢাকা: কলকাতায় খুন হওয়া সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় জড়িত সন্দেহে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে গত রোববার ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহম্মেদ বাবুকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে কলকাতার সঞ্জীবা গার্ডেনের দোতলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে হত্যার পর চেয়ারে নগ্ন হয়ে বসা ও মুখে টেপ দেওয়া অবস্থার একটি ছবি আওয়ামী লীগ নেতা কাজী কামাল ও মিন্টুর মোবাইলে পাঠায় খুনিরা। মোবাইলে ছবি পাঠানোর সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

YouTube player

সাইদুল করিম মিন্টু আটক হওয়ার আগে মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা কার কার কাছে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। সেখান থেকে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে কি না, কাদের মাধ্যমে আর্থিক লাভবান হয়েছে, এসব বিষয় তদন্ত হচ্ছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আনোয়ারুল আজীম আনার চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তা আমরা কখনোই বলিনি। আমরা সব সময় বলে আসছি, এমপির ওই এলাকা সন্ত্রাসপূর্ণ একটি এলাকা। ওখানে সত্যিকারে কী হয়েছে সেটা আমাদের জানতে হবে। আমরা তদন্ত করছি, তদন্তের পর সব কিছু জানানো হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া মিন্টুর বিরোধ বাধে। তার নির্বাচনী এলাকার অনেকেই মনে করেন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পনাকারীদের একজন এই মিন্টু। আনার হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী পলাতক আক্তারুজ্জামান শাহীন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠজন।

প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্যের কন্যার বিয়েতে আনার একটি প্রাডো মডেলের গাড়িও উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। এতেও ওই প্রভাবশালী সংসদ সদস্য, হত্যার শিকার আনারের ওপর সন্তুষ্ট হননি। ২০১৪ সাল থেকে আনার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে স্বর্ণ চোরাচালান, মাদক পাচার ও হুন্ডি ব্যবসা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তিনি এই খাত থেকে প্রতি মাসে অন্তত: কোটি কোটি টাকা পেতেন। এই টাকার ভাগ নিয়ে ওই সব অঞ্চলের সাবেক ও বর্তমান প্রভাবশালী কতিপয় এমপির সঙ্গে বিরোধ বাধে। এই বিষয়টিও তাকে হত্যার অন্যতম একটি কারণ। এই অঞ্চলে স্বর্ণ চোরাচালান, মাদক ও হুন্ডি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শতাধিক ব্যক্তি খুন হয়েছেন।

সাইদুল করিম মিন্টুর বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদাহ ইউনিয়নের ভায়না বিশ্বাসপাড়ায়। প্রয়াত রুহুল কুদ্দুস ও আঙ্গুরা বেগম দম্পতির সন্তান সাইদুল করিম বর্তমানে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর ইন্দিরা সড়কের বাড়িতে স্ত্রী আর্মিজা শিরিন আক্তার ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। স্ত্রী আর্মিজা শিরিন আক্তার স্থানীয় একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এবং সাইদুল করিম সেই পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি।

ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি সাইদুল করিমের। ঝিনাইদহে দীর্ঘদিন দাপটের সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। ১৯৭৮ সালে ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ভারমুক্ত হয়ে পূর্ণ সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৮৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

১৯৯৭ সালে ছাত্রলীগের সক্রিয় সাবেক কর্মীদের নিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন তিনি। ১৯৯৯-২০০০ সালে জেলার সব সহযোগী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিক লীগ গঠনে উদ্যোগী হন। এরপর ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচনে সাইদুল করিম মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর আইনগত জটিলতার কারণে নির্বাচন না হওয়ায় ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর তিনি এই পদে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য আনার হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত শিমুল ভূঁইয়া ও কথিত হানি ট্যাপার শিলাস্তি রহমানের জবানবন্দির সূত্র ধরে একের পর এক ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের নেতা আটক হচ্ছেন। আরও অনেকে নজরদারিতে আছেন।

বিএনএনিউজ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী/ বিএম/এইচমুন্নী

Loading


শিরোনাম বিএনএ