ভ্যাট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্বের প্রধান উৎস: প্রধানমন্ত্রী

বিএনএ, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজস্ব আয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানের ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

আরো পড়ুন

তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১১৪

মোসলেম উদ্দিন এমপির জানাজা কখন কোথায়

আজও দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর একটি মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ প্রণয়ন করি এবং ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু করি। এই আইনকে অধিকতর কার্যকরকরণ এবং অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ লাখের অধিক করদাতা নতুন ১৩ ডিজিটের নিবন্ধন অনলাইনে গ্রহণ করেছে এবং ৭৩ শতাংশ দাখিলপত্র অনলাইনে হচ্ছে। ই-পেমেন্টে অর্থ বিভাগের অটোমেটেড চালান ব্যবহার করে ১২টি তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে এবং ৪৬টি তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে অফলাইনে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। কাস্টমস কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য আমরা ওয়েবভিত্তিক অঝণঈটউঅ ডড়ৎষফ ঝুংঃবস চালু করেছি। আমাদের সরকারের গৃহীত যুগোপযোগী নীতি ও ব্যবস্থাপনার ফলে করদাতাগণ যেমন কর পরিপালনে আগ্রহী হচ্ছেন, তেমনি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শূন্যহাতে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন, যখন ব্যাংকে একটি টাকাও ছিল না এবং রিজার্ভ ছিল না। স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি শিল্প-প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা জাতীয়করণের মাধ্যমে সেখানে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। ‘৭০-এর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী তিনি শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এবং প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮) গ্রহণ করেন। তিনি অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ৭৬নং অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা করেছিলাম, রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রা ১৭ দশমিক ২ বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমরা দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি, একটি সমৃদ্ধ রাজস্ব ভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর প্রাধান্য দিচ্ছি। তাছাড়া, প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

বিএনএ/এমএফ