বিএনএ,ঢাকা: দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে এবার এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক চাল চাললো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী! বর্তমান বিএনপি সরকারকে কড়া নজরদারিতে রাখতে এবং নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে তারা গঠন করছে সম্পূর্ণ নতুন এক ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনিস্টার মডেলের আদলে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া সরকার নিয়ে আসছে। কিন্তু কারা আছেন ডা. শফিকুর রহমানের এই গোপন তালিকায়? এই ছায়া মন্ত্রিসভা কি কেবলই সরকারের বিরোধিতা করার জন্য, নাকি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রক্ষমতার আগাম মহড়া?

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী? সহজ ভাষায়, গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে প্রধান বিরোধী দল সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে নিজেদের একজন করে ‘ছায়ামন্ত্রী’ নিয়োগ করে। সরকার যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এই ছায়ামন্ত্রীরা তার বিকল্প এবং আরও উন্নত সমাধান জনগণের সামনে তুলে ধরেন। ত্রয়োদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত এখন এই কাজটিই করতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে জামায়াত শুধু সংসদের ভেতরেই নয়, বরং জনগণের কাছে প্রমাণ করতে চায় যে—তারা শুধু রাজপথের দল নয়, দেশ পরিচালনার জন্য তাদের কাছে দক্ষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প টিম তৈরি আছে।
এবার আসা যাক সবচেয়ে বড় প্রশ্নে—কারা থাকছেন এই ছায়া মন্ত্রিসভায়? যদিও জামায়াত এখনো আনুষ্ঠানিক তালিকা পুরোপুরি প্রকাশ করেনি, তবে দলটির ভেতরের সূত্র এবং রাজনৈতিক অলিন্দে কিছু নাম নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এই ছায়া সরকারের প্রধান বা ছায়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন দলটির আমির এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজে। তাঁর সাথে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এ.টি.এম. মাছুম, মাওলানা হামিদুর রহমান আযাদ এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতো হেভিওয়েট নেতাদের।
তবে সবচেয়ে বড় চমক আসতে যাচ্ছে দুটি জায়গায়। প্রথমত, এই ছায়া মন্ত্রিসভার মূল মাস্টারপ্ল্যানার ও সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন সুপ্রিম কোর্টের তুখোড় আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। দ্বিতীয়ত, এতে জায়গা পাচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক বেশ কয়েকজন শীর্ষ মেধাবী নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক প্রতিনিধিরা। অর্থাৎ, জামায়াত তাদের এই ছায়া সরকারকে শতভাগ পেশাদার, তরুণ এবং অভিজ্ঞদের এক দারুণ মিশ্রণ বানাতে চাইছে।
অবশ্য এই ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন এবং ভুয়া তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং শিশির মনিরকে আইনমন্ত্রী বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছিল। তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে ছড়ানো ওই তালিকাটি ‘শতভাগ ভুয়া’। দলটির বিশেষজ্ঞ কমিটি এখনো মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট নামগুলো চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করছে। আর চলতি জুন মাসেই চলমান বাজেট অধিবেশন চলাকালীন এই ছায়া মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারার জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনবে? বিএনপি সরকার যখন একের পর এক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন জামায়াতের এই বিকল্প নীতি কতটা প্রভাব ফেলবে রাজনীতিতে?
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

