20 C
আবহাওয়া
৯:৪৩ অপরাহ্ণ - জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » কেমন হবে স্বতন্ত্র রুমিন, জমিয়তের জুনায়েদ, জাপার জামায়াতের মোবারকের লড়াই?

কেমন হবে স্বতন্ত্র রুমিন, জমিয়তের জুনায়েদ, জাপার জামায়াতের মোবারকের লড়াই?


বিএনএ, ঢাকা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এক সময়ের কুমিল্লার জেলার মহকুমা শহর। যা ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত করা হয়। এ জেলার উত্তরে কিশোরগঞ্জ জেলা ও হবিগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে কুমিল্লা জেলা, পূর্বে হবিগঞ্জ জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী, কিশোরগঞ্জ জেলা, নরসিংদী জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা রয়েছে।সংস্কৃতির পীঠস্থান রূপে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়ে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৬ টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে সারাদেশের মানুষের কৌতুহল রয়েছে ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনটি নিয়ে।

এই আসনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এতে ক্ষুদ্ধ হন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। বিএনপি তাকে বহিস্কার করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর জেলা কমিটির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মোবারক হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী লড়াইয়ে আছে সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা। কেমন হবে এই ৪ জনের লড়াই? সেই বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে আসুন জেনে নেই, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৪টি নির্বাচনের ফলাফল।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনটি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয় নগর উপজেলা আংশিক এলাকা নিয়ে নিয়ে গঠিত। এই আসনটি জাতীয় সংসদের ২৪৪ তম আসন।

১৯৯১ সালের ২৭ই ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৬ শত ২ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬ শত ৪৩ জন। নির্বাচনে বিএনপির আব্দুস সাত্তার বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৫২ হাজার ৬ শত ৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের জহিরুল হক খান। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৩৫ হাজার ৩৪ ভোট ।
১৯৯৬ সালের ১২ই জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫ শত ৪১ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭ শত ৪০ জন। নির্বাচনে বিএনপির আব্দুস সাত্তার বিজয়ী হন । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৫৩ হাজার ৯ শত ৩২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের আব্দুল হালিম। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৪৬ হাজার ৬ শত ৮২ ভোট।
২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮ শত ৯২ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯ জন। নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতী ফজলুল হক আমিনী বিজয়ী হন । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৯৯ হাজার ৮ শত ৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের আব্দুল হালিম। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৫৬ হাজার ৫ শত ৪৩ ভোট।
২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৩ জন। ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭ শত ৫৭ জন। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বিজয়ী হন। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭ শত ২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতী ফজলুল হক আমিনী । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৯৪ হাজার ২ শত ৭৩ ভোট।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পঞ্চম ও সপ্তম, সংসদে বিএনপি, অষ্টম সংসদে ইসলামী ঐক্যজোট, নবম সংসদে জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়।

এবার আসা যাক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৪টি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো কত শতাংশ ভোট পেয়েছিল সেই বিশ্লেষণে।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনে ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৫৩.৩৬% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০.০৪%, বিএনপি ৪৫.১৬%, জাতীয় পার্টি ১১.৯৯%, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ১২.৮১% ভোট পায়।
১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭৭.২৩% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩২.৯৩%, বিএনপি ৩৮.০৫% জাতীয় পাটি ১১.৮৭%, জামায়াত ইসলামী ০.৭৬% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ১৬.৩৯% ভোট পায়।
২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭২.৫৩% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩১.৫৮%, ৪ দলীয় জোট ৫৫.৭৪%, জাতীয় পাটি ৩.০১%, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৯.৬৭% ভোট পায়।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৮৩.৩৫% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ১৪ দলীয় জোট ৫৯.৫১%, ৪ দলীয় জোট ৩৯.১১% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ১.৩৮% ভোট পায়।
এবার আসা যাক, আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কেমন ছিল? কারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন?
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৫ শত ৯৩ জন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে র্নিবাচনের দাবিতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। ভোটার বিহীন এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বিজয়ী ঘোষণা কর হয়।

২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮ শত ৪৮ জন। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আব্দুস সাত্তার, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলাম ভূঞাসহ ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সারাদেশে নির্বাচনের আগের রাত প্রশাসনের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালেট বক্স ভর্তি করে রাখেন। কিন্ত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় রাতে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বক্স ভর্তি করা হয়নি। নির্বাচনে বিএনপির আব্দুস সাত্তার বিজয়ী হন । ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৮৩ হাজার ৯ শত ৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মঈন উদ্দীন। কলার ছড়ি প্রতীকে তিনি পান ৭৫ হাজার ৪ শত ১৯ ভোট।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১০শে ডিসেম্বর অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তারসহ বিএনপির ৬ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে পদত্যাগ করা অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। কলার ছড়ি প্রতীকে তিনি পান ৪৪ হাজার ৯১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পান ৯ হাজার ৬৩৫ ভোট। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে। যার ফলে বেশিরভাগ ভোটার ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে।
২০২৩ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহাজাহান আলম সাজু নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়। আমি- ডামি খ্যাত ভোটারবিহীন এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মঈন উদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এরপর আছে জাতীয় পার্টির অবস্থান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।এখানে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাই ঘুরে ফিরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি ইসলামী ঐক্যজোটও এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
কিন্তু ব্রাক্ষাণবাড়িয়া-২ আসনটিতে কখনোই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। সাংগঠনিক অবস্থাও তেমন মজবুত নয়। এবার তো অবস্থা আরও নাজুক। নেতারা পলাতক, কর্মীরা নিরব অথবা অন্যদলের ছাতার নিচে অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় পার্টির (কাদের গ্রুপ) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা। কিন্তু এখনো পুরোদমে মাঠে দেখা যাচ্ছে না তাকে। তবে জাতীয় পার্টির নিরব ভোটার রয়েছে।

এলাকার ভোটারগণ বলছেন, শেষ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী যদি জুনায়েদ আল হাবিব ও ৮–দলীয় জোটের প্রার্থী মোবারক হোসেন হন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভোটের লড়াইটা হবে চতুর্মুখী। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভোট যে প্রার্থী পাবেন তিনিই বিজয়ের মালা গলায় পড়বেন এমনটাই মনে করেন দৈবচয়ন পদ্ধিতে পরিচালিত বিএনএ নিউজ টুয়েন্টিফোরের জরিপে অংশ নেয়া বেশিরভাগ ভোটার।

বিএনএনিউজ/সৈয়দ সাকিব/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ