বিএনএ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. জহির রায়হানের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও, চিঠি জারির এক মাস পাঁচ দিন পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মারজান হোসাইন স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-১২৮৬) এক চিঠিতে, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের (স্মারক নং-২০৪) নির্দেশের আলোকে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠির সঙ্গে অভিযোগসংক্রান্ত চার পৃষ্ঠার নথিও সংযুক্ত ছিল। এর অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) এবং কর্ণফুলীর সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কেও পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দেশনা পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় একাধিক ভূমি সেবাগ্রহীতা দাবি করেন, সাবেক ইউএনও ও সাবেক এসিল্যান্ডের সময়েও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জহির রায়হানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে মো. ফারুক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগে তহসিলদার জহির রায়হানের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং অনিয়ম করে নামজারি করার অভিযোগ আনেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১০ মে ৪১৮৮ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের আগে তহসিলদার ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়, একটি খতিয়ানে জমির পরিমাণ প্রকৃত হিসাবের চেয়ে বেশি দেখিয়ে নামজারি করা হয়েছে। ইছানগর মৌজার একটি খতিয়ানেও প্রকৃত হিস্যার চেয়ে অতিরিক্ত জমি নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে স্বত্ব না থাকা জমিও নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী ফারুক আহমেদের অভিযোগ, চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন নামজারি ও মিস মামলায় ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জহির রায়হান।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমি নামজারির বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর খতিয়ান বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘুষের অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন এবং সাবেক ইউএনও সজীব কান্তি রুদ্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যদিও এর আগে তারা অভিযোগ তদন্ত শেষে মন্তব্য করার কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে কর্ণফুলীর নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে আগে জানতেন না।
তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কোনো চিঠি থাকলে আমাকে দিতে পারেন। আমি নতুন যোগদান করেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
বিএনএ/শাম্মী
![]()

