26.4 C
আবহাওয়া
২:৫৬ পূর্বাহ্ণ - জুলাই ২৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » আওয়ামী লীগ নেতা পদ্মা অয়েলের কর্মচারি নাছির এখন বিএনপি নেতা!

আওয়ামী লীগ নেতা পদ্মা অয়েলের কর্মচারি নাছির এখন বিএনপি নেতা!


বিএনএ, ঢাকা : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। পদ্মা অয়েল লিমিটেডের মাস্টার রোলের নিরাপত্তা কর্মি  ছিলেন।   ১৯৮৬ সালে তিনি পিয়ন পদে  নিয়োগ পান। তখন তার  মূল বেতন ছিল মাত্র ২৩০ টাকা। ২০১২ সালে  পদ্মা অয়েল কোম্পানির  ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন আবুল খায়ের।  পিয়ন নাছির উদ্দিন তার বাজার সওদা করতেন।  সেই সূত্রে  ২০১৪ সালে নাছিরকে পিয়ন থেকে ট্যাংক-লরির চালকের সহকারী চেকার পদে বদলি করেন।  মাত্র  ছয় মাসের মাথায় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের তাকে ক্লারিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি দেন। পাশাপাশি সিবিএর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন নাছির।  আর পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।

YouTube player

ক্লারিক্যাল সুপারভাইজার নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে  গত ১২ বছর ধরে  তাপমাত্রা জনিত বাড়তি তেল এবং সিস্টেম লসের মাধ্যমে তেল চুরির অভিযোগ থাকলেও তাকে  এখনো সরানো হয়নি। এমন কী তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনের আদালতে চার্জসিট দায়ের করার বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানব সম্পদ মহাব্যবস্থাপক জানলেও তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা থেকে রহস্যজনকভাবে বিরত রয়েছে।

নাছির উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নে। নগরীতে তিনি পাঁচলাইশ থানাধীন হিল ভিউ আবাসিকে শিশু একাডেমি-সংলগ্ন ইকুইটি ভবনে থাকেন। চড়েন দামি ব্যক্তিগত গাড়িতে। তাঁর নামে রয়েছে বেশ কিছু জমি। আরও আছে কয়েক কোটি টাকার কমিউনিটি সেন্টার, শেয়ারসহ নানা ব্যবসা। তাঁর বিরুদ্ধে পদ্মা অয়েলের কর্মচারীদের বদলি, পদোন্নতি নিয়ে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণি পাশ নাছির উদ্দিন  সুপারভাইজার হলেও তাকে সমিহ করে চলেন খোদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানব সম্পদ মহাব্যবস্থাপক । দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে চার্জসিট দিলেও  প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে রক্ষা করার কৌশল নিয়েছেন। কেননা এই দূর্নীতিবাজ নাছির উদ্দিনের নানা অনিয়ম, দূর্নীতির সঙ্গে তাদেরও যোগসাজসের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করিৎকর্মা নাছির উদ্দিন শুধু পদ্মা অয়েল কোম্পানির কর্মচারি নন, একই সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। বছরের পর বছর তার ফেসবুকে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক  পরিচয় লেখা থাকলেও সম্প্রতি তা মুছে দিয়েছেন। হাল আমলে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপির নেতা সেজেছেন।  আনোয়ারা-কর্ণফুলী সংসদীয় এলাকার সম্ভাব্য বিএনপি এমপি প্রার্থীদের সভা-সমাবেশ আয়োজনে অর্থ সহায়তা করে যাচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে নাছির উদ্দিন চাকুরি করলেও তাকে কর্মস্থলে যেতে হয় না। সপ্তাহে এক দুইদিন যে কোন সময় তেল চুরির টাকা ভাগবাটোয়ারা করতে আসেন এবং হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দিন গুলোর স্বাক্ষর করে যান। এই সবই ওপেন সিক্রেট। নাছিরের ভাষায় পদ্মার এমডি থাকে তার পকেটে!

প্রসঙ্গত  আনোয়ারা থানার চাতরী চৌমুহনী সংলগ্ন গুয়াপঞ্চক এলাকার শশী কমিউনিটি সেন্টারের মালিক এবং আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক  নাছির উদ্দিনের সঙ্গে সিবিএ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ল্যাবরেটরী সেকশনে কর্মরত টেস্টার  মো. হারুন চৌধুরীর বিরোধ হয়।

এর জের ধরে  ২০২৩ সালের ১৩ই ডিসেম্বর শশী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সহায়তায় একই ঘটনায়  নাছির উদ্দিনের মালিকানাধীন শশী কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার রাশেদ নেওয়াজ চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়। এতে ১১নং আসামী করা হয় পদ্মা অয়েলের কর্মচারি মো. হারুন চৌধুরীকে।  পরে আনোয়ারা থানার এসআই ফারুককে ডেকে এনে পদ্মা অয়েল থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করায়। দীর্ঘ দুই মাসের বেশি কারাভোগের পর হারুন চৌধুরী জামিনে মুক্ত হন। অথচ ঘটনার দিন হারুন চৌধুরী  পদ্মা অয়েল কোম্পানীতে কর্মরত অবস্থায় ছিল।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১২ মে নাছির উদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সম্পদ বিবরণীতে নাছির উদ্দিন ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর একজন উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এই মামলায় মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে গত ১১ ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের আরেক উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব।

চার্জশিটে মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পৌনে ৩ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফৌজদারি মামলায় প্রাথমিক তদন্তে দোষী প্রমাণিত অর্থাৎ চার্জশিট প্রদান করা হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ধরেনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে।

পদ্মা অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মফিজুর রহমানের কাছে নাছিরের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমনের দায়ের করা চার্জসিটের কপি পাঠিয়ে, এই ব্যাপারে বক্তব্য চেয়ে হোয়াটঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।  তবে মানব সম্পদ মহাব্যবস্থাপক  জানিয়েছেন, দাপ্তরিক পত্র প্রাপ্তির পর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিধি অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনএ নিউজ টুয়েন্টিফোর/শামীমা চৌধুরী শাম্মী/

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত জুলাইয়ের ২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত ফেরদৌস, শাওন, আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার খুলশীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দুই এসআইসহ ৭ পুলিশ আহত ‘রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারির মামলা করা যায় না’ - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরাজয়ের পর অবশেষে দেখা দিলেন মেসি জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত আইরিন খানই কী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?