বিএনএ,ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে এক মহানাট্য চলমান! রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের অধিবেশনে কে বসছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির চেয়ারে? বিএনপির পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই বাতাসে ভাসছে এক বিশ্বখ্যাত নারীর নাম—আইরিন খান! অনেকে ভাবছেন তিনি কেবল একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নেত্রী, কিন্তু পর্দার পেছনের আসল সত্যটা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন! তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং জিয়া পরিবারের কয়েক দশকের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত রক্তের অংশ!

সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমানে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান। আর এই শূন্যতায় রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছে লন্ডনে বসবাসকারী জাতিসংঘ নেত্রী আইরিন খানের নাম। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মানবাধিকার নেত্রীর পুরো নাম হলো আইরিন জুবাইদা খান। বিশ্বজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে তিনি সাধারণত আইরিন খান নামেই সুপরিচিত গুঞ্জন রয়েছে, তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পেলেই তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব নিতে ঢাকায় পা রাখবেন।
আইরিন খানের সাথে তারেক রহমানের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক নয়, এটি সরাসরি পারিবারিক এবং রক্তের সম্পর্ক। আইরিন খান হলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ড. জোবাইদা রহমানের আপন জ্যাঠাতো বোন (চাচাতো বোন)। অর্থাৎ, সম্পর্কে আইরিন খান হলেন তারেক রহমানের সরাসরি ভায়রা-বোন বা শালিকা। লন্ডনের দীর্ঘ প্রবাস জীবনে জিয়া পরিবারের এই দুই শাখার মধ্যে রয়েছে সুগভীর যোগাযোগ। তারেক রহমান এমন একজনকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে খুঁজছেন—যিনি আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববরেণ্য হবেন, আবার যার ওপর চোখ বন্ধ করে শতভাগ ভরসা রাখা যায়। এই বিশ্বস্ততার পরীক্ষায় আইরিন খান জিয়া পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসার প্রতীক।
আইরিন খানের ধমনীতে বইছে এমন এক পরিবারের রক্ত, যারা এই উপমহাদেশের এবং বাংলাদেশের জন্ম ও সুরক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চলুন একনজরে দেখে নিই তার পরিবারের সেই কালজয়ী নক্ষত্রদের:
আইরিন খানের দাদা ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার। তিনি তৎকালীন আসাম আইনসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে এ অঞ্চলের রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তার বাবা ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একজন অত্যন্ত প্রখ্যাত ও মানবিক চিকিৎসক, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে দেশের চিকিৎসা ও সমাজসেবায় নীরব অবদান রাখেন।
আইরিন খানের আপন চাচা হলেন বাংলাদেশের আধুনিক নৌবাহিনীর রূপকার এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের অত্যন্ত সফল যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। এই মাহবুব আলী খানেরই ছোট মেয়ে হলেন ড. জোবাইদা রহমান।
এই পরিবারের আভিজাত্য এখানেই শেষ নয়! আইরিন খানের পরিবার ছিল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অত্যন্ত নিকটাত্মীয়। জেনারেল ওসমানী এবং আইরিন খানের চাচা মাহবুব আলী খান ছিলেন আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই।
বিএনপির দীর্ঘদিনের কৌশলগত লক্ষ্য হলো—ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলের একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং মানবাধিকার-বান্ধব ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তোলা। আইরিন খান ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম নারী ও প্রথম এশীয় মহাসচিব ছিলেন এবং বর্তমানে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। তার মতো একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতি বানালে পশ্চিমা বিশ্ব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক রাতেই এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। যেহেতু রক্তের সম্পর্কের কারণে তার আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা নিয়ে তারেক রহমানের মনে কোনো সংশয় নেই, তাই এই চালটি হতে যাচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং রাষ্ট্র গঠনে যে পরিবারের রক্ত বারবার লড়াকু ভূমিকা পালন করেছে, সেই পরিবারের সন্তান আইরিন খান যদি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হন, তবে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত আইরিন খানই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না, তা দেখার জন্য আমাদের আগামী সেপ্টেম্বর মাসের সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিএনএ/ওজি
![]()

