বিএনএ, ডেস্ক : সনাতন ধর্মের অনুসারিদের বারো মাসে তেরো পার্বণ বা পুজা পালন করে থাকে। তবে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও আর্কষণীয় পুজার নাম দুর্গা পুজা। “দুর্গাষষ্ঠী” উৎসবের মধ্য দিয়ে ২৮ শে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে “দুর্গাষষ্ঠী”, “দুর্গাসপ্তমী”, “মহাষ্টমী”, “মহানবমী” ও “বিজয়াদশমী” নামে পরিচিত।
গত বছর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরার সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজেবামনদাহ হরিতলা পালপাড়া পূজামণ্ডপে গীতা পাঠ এবং চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ জেএম সেন হলে জামায়াত ইসলামীর সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন ছিল ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’।
বিশেষ করে অধ্যাপক মতিয়ার রহমানের ৫ মিনিট ধরে গীতা পাঠের ঘটনা আলোচনা-সমালোচনা এবং কৌতুহলের সৃষ্টি করেছিল। দুর্গা পুজা সামনে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনা হচ্ছে অধ্যাপক মতিয়ার রহমানের নাম।
পুজার সপ্তমীর দিন শতাধিক কর্মী নিয়ে মন্ডপ পরির্দশনে এসে এই জামায়াত ইসলামী নেতা বলেন “আমি এই কোটচাঁদপুরে আলো বাতাস, মাটি ও মায়া মমতাই বেড়ে ওঠেছি। ইসলামী আদর্শের একজন ব্যক্তি হলেও, আমার ভেতর একজন ভালো সনাতনী হিন্দু ব্রাহ্মণ, একজন ভালো খ্রিষ্টান এবং একজন ভালো মুসলিমও আছেন।”
তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, “বিশ্বাস করুন, হিন্দু ধর্মের আবির্ভাব মুসলমানদের কোরআন পাওয়ার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বছর পূর্বে হয়েছে। এই জাতিটি ভারতের কালীকোটের মালমল সিন্দুর হ্রদের অববাহিকায় বাস করতো। আড়াই হাজার বছর তারা সেখানে ছিল।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ভোট প্রার্থনা করেন এবং বলেন, পালামেন্টে গেলে তিনি চুরি করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। পরবর্তীতে গীতা পাঠ করেন, এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা উলুধ্বনি দেন ও শঙ্খ বাজান।
গীতা পাঠ শেষে তিনি বলেন, যদি আগামীতে নির্বাচিত হন, তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব পালনে সহযোগিতা করবেন। তিনি আরও বলেন, “আমি একা নই, আমার সাথে বিএনপির নেতারাও আছেন।”
দুর্গা পুজা মন্ডপে জামায়াত নেতার এমন বক্তব্যে এবং গীতাপাঠ মুসমানদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠেছে। বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেছেন, যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে পুজা মন্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে, তারা ছাড়া অন্য কোন মুসলমান নারী-পুরুষ উপস্থিতি তথা পরিদর্শন, শুভেচ্ছা জানানো, মতবিনিময় করা, আশ্বাস দেয়া কুফুরির শামিল এবং ইসলামের সঙ্গে সাংর্ঘষিক।
আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ জামায়াত ইসলামী নেতার এমন কমকান্ডকে শিরক বলে দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর দুর্গা পুজায় গীতা পাঠকারি অধ্যাপক অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ –৩ সংসদীয় আসনের জামায়াত ইসলামী ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সনাতন ধর্মানুসারি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গা মন্ডপ পরির্দশনে গিয়ে ভোট চাইবেন একই সঙ্গে গীতা পাঠ শুনবেন এমনটা প্রত্যাশা করতেই পারেন!
সৈয়দ সাকিব
![]()

