Bnanews24.com
Home » কেমন ছিলো ২০২০ সালের আদালত পাড়া
আদালত কভার ফিরে দেখা ২০২০ সব খবর

কেমন ছিলো ২০২০ সালের আদালত পাড়া

কেমন ছিলো ২০২০ সালের আদালত পাড়া

।।সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।।

বিএনএ,আদালত প্রতিবেদক: ২০২০ সাল । রয়েছে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডব । অনেকেই ২০২০ সালকে অশুভ মনে করে নিজের মন থেকে মুছে ফেলতে চাইবেন। কিন্তু ঘটনা বহুল এই বছরকে চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না। ২০২০ সালে দেশের অপরাধ জগতে ঘটে গেছে এমন কিছু ঘটনা যা দেশ জুড়ে হয়েছে আলোচিত সমালোচিত। অপরাধ গুলোকে কেন্দ্র করে হয়েছে মামলা। সে মামলা গুলো বছর জুড়ে আদালত পাড়ায় ছড়িয়েছে উত্তাপ।

বছরের শুরু থেকেই আদালত পাড়ায় উল্লেখ্যযোগ্য ইস্যু ছিল সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আবরার, সাবরিনা, সম্রাট, জিকে শামীম, খালেদ মাহমুদ, তিন ডিআইজি, ভিপি নূর, সাহেদ, পাপিয়া, মজনুর মত কিছু নাম। যাদের নামের পাশে রয়েছে একাধিক অপরাধ মূলক কাজের অভিযোগে কয়েকটি মামলা। কিছু মামলার বিচার কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে। আবার কিছু মামলার বিচারকাজ এখনো চলছে।

আলোচিত মামলার বিচারকাজ: এ বছর বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতির মামলাও রয়েছে। ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিচার শুরু হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে আছে।

আবরার ফাহাদ রাব্বি

দেশের বহুল আলোচিত বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়েছে। এই মামলাটিও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আছে।

করোনাকালে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর গ্রেফতারের বিষয়টি ছিল বেশ আলোচনায়। করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা করার মামলায় জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী এবং তার স্বামী সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

দেশ জুড়ে আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, জিকে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে করা কয়েকটি মামলায় বিচার শুরু হয়েছে।

কেমন ছিলো ২০২০ সালের আদালত পাড়া

পুলিশের তিন উপ-মহাপরিদর্শকের বিচার শুরু: দুদকের মামলায় পুলিশের তিন ডিআইজির(উপ-মহাপরিদর্শক) বিচার শুরু হয়েছে। তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলায় ডিআইজি মিজানুর রহমান, স্ত্রী সোহেলিয়া আনার ওরফে রত্মা রহমান, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের বিচার শুরু হয়েছে।

গত ২০ অক্টোবর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরেরও বিচার শুরু হয়েছে।

ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিং

এছাড়া ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় বরখাস্ত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন আদালত।

তিন কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে গত ৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলাগুলো সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে ভিপি নুরের বিরুদ্ধে তিন মামলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। যা তদন্তনাধীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি দুটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। মামলাগুলোয় ভিপি নুর গ্রেফতার না হলেও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ওই ছাত্রীকে ফেসবুকে ‘দুশ্চরিত্রা’বলার অভিযোগে নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।

এই বছর হয়েছে কিছু উল্লেখযোগ্য মামলার রায়: দেশের ইতিহাসে প্রথম পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর রায় ঘোষণা করে আদালত। এ মামলায় পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে দুই লাখ টাকা করে ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় পুলিশের সোর্স সুমন ও রাশেদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই বছরের আলোচনায় শীর্ষে ছিলেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ। রিজেন্ট হাসপাতে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তার বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলার মধ্যে অস্ত্র মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

শামীমা নূর পাপিয়া

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমানের সুমনের বিরুদ্ধে করা কয়েকটি মামলার মধ্যে অস্ত্র মামলায় তাদের ২০ বছর কারাদণ্ড এবং গুলি উদ্ধারের ঘটনায় তাদের আরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭। এ মামলাটিও ছিল বেশ আলোচিত।

এছাড়াও ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন, কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা মামলার বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে বিলম্বিত হয়েছে মামলাগুলোর বিচারকাজ।

কাউন্সিলর ইরফান সেলিম

বছরের শেষ দিকে এসে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ২৫ অক্টোবর রাজধানীর কলাবাগানে নৌ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় আলোচনায় আসেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র্যা ব। র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে এরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা তদন্তাধীন
বছরের শেষ দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরখাস্ত গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি বেশ আলোচনায় ছিল। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলো দুই দফায় রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোনাচোরাচালানের মাধ্যমে দোকান কর্মচারী থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের গ্রেফতারের বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। গত ২০ নভেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর বাড্ডায় মনিরের বাড়ি ঘিরে রাখে র্যা ব। ২১ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে ৬০০ ভরি সোনার গহনা, বিদেশি পিস্তল-গুলি, মদ, ১০টি দেশের বিপুল পরিমাণ মুদ্রা ও নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুই দফার ২৭ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সর্বশেষ আদালত পাড়ায় আলোচিত ইস্যু “ভাষ্কর্য”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে এই ইস্যুতে করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে দেন আদালত। তবে হেফাজতে ইসলামির নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে করা দুইটি মামলার তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিএনএনিউজ/মনির