বিএনএ, ঢাকা : অবশেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ । সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে নির্যাতন এবং জুলাই আন্দোলনে সময়ের ৪টি হত্যা মামলা রয়েছে। সব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তৎকালীন সময়ে বিএনপিকে বিভক্ত করা এবং একটি অনুগত নেতৃত্ব (মাইনাস টু ফর্মুলা) তৈরির অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন মাসুদ চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতাদের বিনাবিচারে আটক এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের নির্দেশদাতা হিসেবে তার নাম বারবার উঠে এসেছে।
মাসুদ চৌধুরীর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দলীয় মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী জানান, “দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার শুরু হয়েছে। ১/১১-এর কুশলীরা যারা এদেশকে রাজনীতিশূন্য করতে চেয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের বিচার হতে হবে।”অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিহিংসা নয় বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়েই এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
অভিযযোগ রয়েছে , মাসুদ চৌধুরীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর রিমান্ডের নামে নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এবং তাকে পঙ্গু করার চেষ্টার প্রধান কারিগর বা “মাস্টারমাইন্ড” ছিলেন জেনারেল মাসুদ। এই নির্যাতনের ফলেই তার মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার চিকিৎসার জন্য তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আগেই ২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পান।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভূঞা)র সংসদ সদস্য ছিলেন।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাসুদ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ১/১১-এর পর্দার আড়ালের আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে। এই অবস্থায় অনেক সাবেক সেনা কর্মকর্তারা মাসুদ চৌধুরী গ্রেপ্তারের পর আতঙ্কে রয়েছে।
বিএনএনিউজ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী/এইচ.এম।
![]()


