Bnanews24.com
Home » ভাষা সৈনিক (২৫) বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী পর্ব : ০৩
টপ নিউজ ভাষা সৈনিক পরিচিতি সব খবর

ভাষা সৈনিক (২৫) বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী পর্ব : ০৩

ভাষা সৈনিক আবদুর রহমান চৌধুরী

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এটাই ছিল পাকিস্তান উত্তর প্রথম হরতাল কর্মসূচি। এ কর্মসূচিকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য ভাষা-আন্দোলনের ৪ জন নেতৃবর্গের স্বাক্ষরে একটি বিবৃতি পত্রিকায় প্রেরিত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক আবুল কাশেম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নঈমুদ্দীন আহমদ ও আবদুর রহমান চৌধুরী। আবদুর রহমান চৌধুরী উক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া যুব সম্মেলনে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত ভারতের কলকাতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় যুবসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত যুব সম্মেলনে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল নির্বাচনে সরকারি তরফ থেকেই আবদুর রহমান চৌধুরীকে দলনেতা নির্বাচন করা হয়। উক্ত যুব সম্মেলনে পাকিস্তান থেকে আগত প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে আবদুর রহমান চৌধুরী বক্তৃতা প্রদানের সময় তিনি বাংলায় বক্তৃতা দেন। পাকিস্তান-উত্তরকালে কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে এটাই প্রথম বাংলায় বক্তৃতা। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একজন অকুতোভয় সৈনিক আবদুর রহমান চৌধুরী এভাবেই মাতৃভাষা বাংলাকে আন্তর্জাতিক ফোরামে মহিমান্বিত করেছেন।

১৯৪৮ সালের মার্চ দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। জনাব শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে গঠিত উক্ত সংগ্রাম পরিষদে আবদুর রহমান চৌধুরী অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের হরতালের সময় আবদুর রহমান চৌধুরী উক্ত কর্মসূচি সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য ছাত্রদের সংগঠিত করেন। হরতালের পূর্বাপর কয়েকটি দিন তিনি অতন্দ্রভাবে কাজ করে যান।

১৯৪৮ সালে জিন্নাহ ঢাকা আসার পর ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসেন। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের সাথে জিন্নার যে আলোচনা হয় আবদুর রহমান চৌধুরী ছাত্রলীগের সে গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। উক্ত বৈঠকে প্রসঙ্গক্রমে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিটি তিনি উত্থাপন করেন।

১৯৪৮ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকা আগমন করেন। ২৭ নভেম্বর ডাকসু’র পক্ষ থেকে লিয়াকত আলী খানকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এসময় যে স্বাগত ভাষণ ডাকসু’র পক্ষ থেকে পঠিত হয়েছিল তা প্রস্তুত করেন আবদুর রহমান চৌধুরী। আবদুর রহমান অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের অনেক ন্যার্য দাবি তুলে ধরা হয়। এসবের মধ্যে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ভাষা-আন্দোলনের প্রথম অধ্যায়ের (১৯৪৭-৪৮) প্রতিটি ঘটনায় আবদুর রহমান চৌধুরী উপস্থিতি, সংশ্লিষ্টতা, সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্বদান জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গৌরবজনক বিষয়। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপন ভঙ্গি এমন ছিল যে, যেকোনো বিষয় তিনি যখন বলতেন, তেমনি ছিলেন সংগঠক। তিনি যা বুঝতেন তা সততা ও সাহসিকতায় সাথে উচ্চারণ করতেন এবং দাবি আদায়ের জন্য সর্বপ্রকার কৌশল অবলম্বনে পিছপা হতেন না। ভাষা-আন্দোলনের প্রথম অধ্যায়ে তিনি তাঁর সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যে যোগ্য নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেনে, তা জাতীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তাঁর কীর্তির জন্য অমর হয়ে থাকবেন।

ভাষাসৈনিক আবদুর রহমান চৌধুরী ১৯৯৪ সালের ১১ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার ধানমণ্ডিতেদ তাঁর নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

সূত্র: যারা অমর ভাষা সংগ্রামে, লেখক: এমআর মাহবুব

সম্পাদনায়: মনির ফয়সাল

পড়ুন আগের পর্ব: ভাষা সৈনিক (২৫) বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী পর্ব : ০২