বিএনএ, চট্টগ্রাম : নাইট গার্ড সেজে চট্টগ্রামে অনেকদিন আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে র্যাবের হাতে ধরা পড়লেন যশোরের ৯ মামলার পলাতক আসামি মো. জাহিদ হাসান ওরফে বোমা জাহিদ। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেডের এমজেডএম ফ্যাক্টরি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেপ্তার জাহিদ যশোরের বাঘারপাড়া পাকের আলী বাড়ির মৃত আকবর সরদারের ছেলে।
র্যাব-৭ জানায়, নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন এক পোশাক শ্রমিকের সাথে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যান ঢাকায়। পরে সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে জাহিদ।
ভুক্তভোগী গার্মেন্টস কর্মী চট্টগ্রাম নগরীর একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। গত এক বছর আগে আসামি মো. জাহিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জাহিদ নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং র্যাব সদস্য বলে পরিচয় দেয় এবং তার নিজের নাম-ঠিকানা গোপন রাখে। একইসঙ্গে বর্তমানে সে এলপিআরএ আছে এবং নগরীরর ইপিজেড এলাকায় এমজেডএম কোম্পানিতে কর্মরত বলেও জানায়। মোবাইলে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। আসামি জাহিদ প্রায় সময়ই ওই মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখাতো এবং তার মা, ভাই-বোনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিত।
গত ২ আগস্ট মেয়েটিকে আসামি জাহিদ তার বাড়ি যশোরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করবে বলে জানায়। এজন্য তার মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তাকে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে। পরে মেয়েটিকে ঢাকায় রমনা মডেল থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে জাহিদ। ধর্ষণের পর আসামি জাহিদ মেয়েটির কাছে থাকা নগদ ৩ হাজার ৮শ’ টাকা এবং গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে এ ঘটনায় মেয়েটি বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় আসামী জাহিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জাহিদ হাসান যশোরের ৯ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি এবং চট্টগ্রামে আত্মপোগনে রয়েছে। তার অবস্থান নিশ্চিত করে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে নগরের ইপিজেডের এমজেডএম ফ্যাক্টরি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, মূলত আসামি জাহিদ যশোর জেলার বাঘারাপাড়া এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। যশোর জেলার বাঘারপাড়া এবং কোতোয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, প্রতারণা, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন অপকর্মের ৯টি মামলা রয়েছে। এসব মামলা থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে সে যশোর থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে আসে। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে এসে ইপিজেড এলাকায় এমজেডএম কোম্পানিতে নাইট গার্ডের ছদ্মবেশে আত্মগোপন করে। ব্যক্তি জীবনে সে ২টি বিয়ে করেছে। যশোরে তার এক স্ত্রী এবং দুটি সন্তান রয়েছে এবং চট্টগ্রামে তার আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। দুটি স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও মেয়েটির সাথে মিথ্যা পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
বিএনএ/ ওজি
![]()

