বিএনএ, ঢাকা:বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাটকীয় মেরুকরণ চলছে। যে ইউনুসের প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং সহযোগিতায় তারেক রহমান দেশে ফিরতে পেরেছেন, যার সাজানো নীলনকশায় ক্ষমতায় বসেছে বিএনপি, সেই ইউনুসের সাথেই বিএনপির দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
ইউনুস রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারেক রহমান ইউনুসকে বিশ্বাস করতে পারেননি। ইউনুস রাষ্ট্রপতি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের ক্ষমতা কমে যাবে, ইউনুস জামায়াত এবং এনসিপির সঙ্গে আঁতাত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে- এমন শংকা থেকেই ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি করা হয়নি।
তাছাড়া, বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ইউনুস-খলিলের করা যুক্তরাষ্ট্রের সংগে বানিজ্য চুক্তির কারণে সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।
এই চুক্তির কারণে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে পারছে না বিএনপি। কারণ, রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করার সাথে সাথেই বাংলাদেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
এই চুক্তির কারণে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। চীনের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারছে না সরকার। কারণ চীনের কাছে ঋণ নিলে চীনা পণ্য কিনতে হবে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বানিজ্য চুক্তি অনুসারে চীনের কাছ থেকে পণ্য কিনলে দেড়শ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের লোভনীয় অর্থনৈতিক প্রস্তাবগুলো তাই সরকার গ্রহণ করতে পারছে না।
এই চুক্তির কারণে রাশিয়া থেকে কম মূল্যে গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। যদি রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা যেত তাহলে জ্বালানি খাতে বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো। সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হতো না।
বিএনপির মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এজন্য তারা ইউনুসকে দুষছে। কিন্তু ক্ষমতার লোভে এই চুক্তির প্রকাশ্য বিরোধীতা করতে পারছে না বিএনপি।
একারনেই ইউনুসের করের মামলা সচল হয়েছে। হাইকোর্ট ইউনুসের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। এখন ইউনুসকে ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও ইউনুসের ঘনিষ্ঠ ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেছে দুদক। আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। ফেঁসে যেতে পারেন ইউনুসের বান্ধবী নুরজাহান বেগম।
এসব নিয়ে ইউনুস ক্ষুব্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত দালাল ইউনুস এরপরই বিএনপির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নালিশ করেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিএনপির মধুর সম্পর্কে খানিকটা ফাটল দেখা দিয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপির কয়েকজন নেতাকে ডেকে মার্কিন মনোভাবের কথাও তুলে ধরেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন মানবাধিকার কমিশন আইন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের গড়িমসি,বিএনপির নেতা কর্মীদের চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বিএনপির দলীয়করণের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে, বিএনপির উপর আস্থা রাখতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। ইউনুস- তারেক বিরোধ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের নতুন নাটক মঞ্চস্থ করলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু তার শক্রর দরকার হয় না।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

