Bnanews24.com
এক নজরে বিশ্ব সব খবর

তিমির পেটে স্বর্ণের মত দামী জিনিষ!

তিমির পেটে স্বর্ণের মত দামী জিনিষ!

বিএনএ, বিশ্বডেস্ক : তিমি মাছের পেটের ভেতরে পাওয়া দুর্লভ এক জিনিস বদলে দিয়েছে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনের একদল জেলের ভাগ্য।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও এডেন উপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল একদল জেলে। এক পর্যায়ে তারা সমুদ্রের পানিতে একটি মরা স্পার্ম তিমি ভাসতে দেখে। কিন্তু তখনও তারা ভাবতে পারেনি যে এর পেটের ভেতরে আছে মহামূল্যবান এক পদার্থ।

মাছটি থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয় যে এর ভেতরে কিছু একটা আছে। তখন জেলেরা তিমি মাছটিকে সমুদ্রের তীরে নিয়ে আসে। তারপর পেট কেটে এর ভেতরে এমন একটি জিনিস দেখতে পায় যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।

মূল্যবান এই জিনিসটির নাম অ্যাম্বারগ্রিস যার বাজার মূল্য ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি।

স্পার্ম হোয়েলের পরিপাকতন্ত্রে নিঃসৃত রস জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাম্বারগ্রিস।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিজের পরিপাকতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য সামুদ্রিক এই প্রাণীটি এ ধরনের রস নিঃসরণ করে থাকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, “স্পার্ম হোয়েল যেসব সামুদ্রিক প্রাণী বা মাছ খায় সেগুলোর হাড়গোড়সহ বিভিন্ন ধারালো ও শক্ত অংশ যাতে তার নিজের পরিপাকতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফুটো করতে না পারে সেজন্য সে এই রস নিঃসরণ করে যা পরে পেটের ভেতরে জমাট বেঁধে যায়।”

তিনি বলেন, পেটের ভেতরে নিঃসৃত এই রস সাধারণত এটা ছোট ছোট লাম্পে জমাট বাঁধে এবং তিমির মলের সাথে বেরিয়ে যায়। কিন্তু সেই রস জমতে জমতে যখন বড় আকার ধারণ করে তখন সেটা পায়ুপথ দিয়ে বের হতে পারে না।

বিজ্ঞানীদের ধারণা এরকম পরিস্থিতিতে স্পার্ম হোয়েল তার পেটের ভেতরে জমাট বাঁধা রস মুখ দিয়ে বের করে দেয়। এজন্য অ্যাম্বারগ্রিসকে হোয়েলের বমি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

স্পার্ম হোয়েলের পায়ুপথ কিম্বা মুখ দিয়ে নির্গত এই কঠিন কিন্তু মোমের মতো দাহ্য বস্তুটিই অ্যাম্বারগ্রিস।

সব স্পার্ম হোয়েলের পেটের ভেতরে এই অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হয় না। কিছু কিছু তিমির ভেতরে এটা পাওয়া যেতে পারে এবং স্পার্ম হোয়েল ছাড়া অন্য কোনও তিমি মাছের পেটে এই অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হয় না।

সমুদ্র বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, সমুদ্রে যদি ১০০টি স্পার্ম হোয়েল থাকে তাহলে তার একটি কি দুটির মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যাম্বারগ্রিস থাকতে পারে।

ইয়েমেনের জেলেরা এডেন উপসাগরে মৃত একটি তিমি মাছের পেটের ভেতরে যেটুকু অ্যাম্বারগ্রিস পেয়েছে সেটা তারা বিক্রি করেছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে তারা খুব খুশি। হঠাৎ করেই এভাবে এতো অর্থ পেয়ে যাবে সেটা তারা কখনও কল্পনা করেনি। স্বপ্নের মতো ধরা দিয়েছে এই অর্থ।

অ্যাম্বারগ্রিস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জেলেরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে, যা দিয়ে কেউ বাড়ি ও গাড়ি কিনেছে। কেউ কেউ বিয়ে করে সংসার শুরু করারও পরিকল্পনা করছে। কিছু অর্থ বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে গরিব মানুষের মধ্যে।

বাজারে এক কেজি অ্যাম্বারগ্রিসের দাম প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এতো দামী হওয়ার কারণে এটিকে প্রাকৃতিক স্বর্ণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। (বিবিসি বাংলা)

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।