Bnanews24.com
Home » নেত্রকোনায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, ইমামের বিরুদ্ধে মামলা
অপরাধ সব খবর সারাদেশ

নেত্রকোনায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, ইমামের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণে

বিএনএ, নেত্রকোনা : ধর্ষনের শিকার হয়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবতি (২৭) সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনি নিজেই বাদী হয়ে হাফেজ নুর আহম্মদ (৫৭) নামে মসজিদের এক ইমামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নুর আহম্মদ একই গ্রামের মগল মিয়ার ছেলে।

মামলা ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাফেজ নুর আহম্মদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের শানারপার এলাকায় পরিবারসমেত বসবাস করেন। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মল্লিকপুরে বসবাস করেন তার মা । মাকে দেখতে মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাড়িতে আসেন। এ সময় তিনি গ্রামের মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ান। এক পর্যায়ে পাশের বাড়ির এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর প্রতি তার নজর পড়ে। বিভিন্ন কাজের বাহানায় ডেকে নিয়ে তরুণীটিকে ধর্ষণ করেন। একসময়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বর্তমানে যুবতীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এলাকা বাসীর অভিযোগ, আগে একবার গ্রামের মসজিদে ইমাম থাকা অবস্থায় নুর আহম্মদ এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।েএক পর্যায়ে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী তাকে মারধর করে গ্রাম থেকে বের করে দেন। পরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ চলে যান তিনি। সেখানে গিয়েও তিনি একই কাজ করেন। ধরা পড়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে বিয়ে করে তিনি সেখানেই স্থায়ী হন। একবার মালয়েশিয়া গিয়ে কিছুদিন থেকেছেন । তিনি ৬-৭টা নারী সংক্রান্ত কেলেংকারি করেছেন।

উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার লালন বখত মজুমদার বলেন, নুর আহম্মদ ইমামতি করলেও তার নারী কেলেংকারির অনেক ঘটনা আছে। বর্তমানে বিদেশে লোক পাঠায়, আদম ব্যবসাও করে। এই প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিয়ে করার কথা বললেও সে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে। এলাকায় কিছু লোকজনকে টাকাপয়সা দিয়ে প্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

ভুক্তভোগীর মা জানান, প্রথমে নুর আহম্মদকে আমি ঘটনা ফোনে জানাই। জানানোর পর এটি সমাধানে আমাকে আশ্বাসও দেয়। কিন্তু কয়েক দিন যেতেই এলাকার কয়েকজন মানুষকে টাকাপয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে আমাকে আর আমার মেয়েকে অপবাদ দিতে শুরু করে। তারা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেয়, ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। শেষে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমার ৭ সন্তানের মধ্যে ৫ জনই প্রতিবন্ধী। স্বামী মারা যাওয়ার পর এদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছি। এ ঘটনার বিচার চাই।অভিযুক্ত হাফেজ নুর আহম্মদ মামলার খবর পেয়েই গা-ঢাকা দিয়েছেন । ফলে, তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

এ ব্যাপারে বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, বেসরকারীভাবে ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই যুবতি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারীভাবে ডাক্তারের কাছে পাঠানো হবে।মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাকে ধরা যায়নি। গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে।

বিএনএ/ ফেরদৌস আহমাদ বাবুল, ওজি