22 C
আবহাওয়া
১২:৪২ পূর্বাহ্ণ - ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » দেশে প্রতি হাজারে ৮ জন মৃগীরোগে আক্রান্ত

দেশে প্রতি হাজারে ৮ জন মৃগীরোগে আক্রান্ত


বিএনএ, ঢাকা: দেশে মৃগী রোগ নিয়ে ঝাড়ফুঁকের মতো অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। কিন্তু মৃগীরোগ বা এপিলেপসি হলো মস্তিষ্কের একটি অসুখ। তাই এই রোগের বৈদ্য-কবিরাজের অপচিকিৎসার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক নয়, অন্য সাধারণ রোগের মতো সঠিক চিকিৎসায় মৃগী রোগীও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারে বলে জানিয়েছেন জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেছেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ মৃগীরোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতি হাজারে ৮ জন মৃগী রোগে আক্রান্ত। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় এ রোগে দীর্ঘমেয়াদী অক্ষমতার হার বাড়ছে। কেবল রোগের ইতিহাস ও খিঁচুনির ভিডিও দেখে কোনো রকম দামি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। আর নিয়মিত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই মৃগীরোগে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা  সম্ভব হয় না কারণ দেশে এ রোগে সার্জারির ব্যবস্থা সীমিত।

এছাড়াও মৃগীরোগে আক্রান্ত নারীরা গর্ভধারণের আগে ও গর্ভকালীন সময়ে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে সুস্থ থাকতে পারবে এবং সুস্থ বাচ্চা জন্ম দিতে পারবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সোমবার ‘আর্ন্তজাতিক মৃগীরোগ দিবস’। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সোমবার এ রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দিবসটি পালন করা হয়।

মৃগী রোগের লক্ষণ হিসেবে চিকিৎসকরা জানান, হঠাৎ অস্বাভাবিক কাঁপুনি বা খিঁচুনি হওয়া, চোখ-মুখ উল্টে হাত-পা ছোঁড়া, অচেতন হওয়া, মুখ দিয়ে ফেনা বা লালা বের হওয়া কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের পাতা স্থির হয়ে যাওয়া, একদৃষ্টিতে একদিকে চেয়ে থাকা অথবা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে তাকে মৃগীরোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। তবে খিঁচুনী মানেই মৃগীরোগ নয়। কোন কারণ ছাড়া যদি দিনে দুই বারের বেশি খিঁচুনি হয় তাহলে ধরে নিতে হবে এটি মৃগী রোগের উপসর্গ। মৃর্গী রোগ হলে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা। অন্য রোগ থেকে খিচুনী হলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা নিতে হয়।

তারা জানান, এপিলেপসি বা মৃগীরোগ আমাদের মস্তিষ্কের একটি অসুখ। আমাদের মস্তিষ্কের অন্যতম কোষ নিউরন। এ রকম অনেকগুলো নিউরন একসঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করলে বিভিন্নভাবে এর বহিঃপ্রকাশ হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খিঁচুনি। এ ছাড়া মস্তিষ্কের কোনো স্থানের নিউরন অস্বাভাবিক আচরণের ওপর নির্ভর করে এটি বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হতে পারে। খিঁচুনি হয় যখন ব্রেইনের মধ্যে রক্ত চলাচলে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রেইনে অক্সিজেনের অভাব হয়। যে কারণে সারা শরীর জুড়ে ঝাঁকুনি হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রেই এপিলেপসি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু নিউরোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু বলেন, আমাদের দেশে ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশু বয়সেই মৃগীরোগ শুরু হয়। এটা নিন্ম ও মধ্যম আয়ের দেশ গুলোতে এ রোগ বেশি হয়। উন্নত দেশ গুলোতে খুবই কম।

তিনি বলেন, জন্মের সময় নানা ধরনের সমস্যার কারণে মূলত মৃগী রোগ হয়। এরমধ্যে- যে শিশু কান্না না করে বা কান্না করতে দেরি হয়, অক্সিজেনের অভাব হওয়া, ব্রেইনে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, জন্মের সময় বেশি আকারে জন্ডিস হয় অথবা জন্মের সময় খিচুনি শুরু হয়। এসব শিশুদের মৃগী রোগ দেখা দেয়।
ডা. গোপেন কুমার কুন্ড বলেন, দেশে মৃগীরোগের চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে সুযোগ রয়েছে, তবে যর্থাথ নয়। বেশিরভাগ রোগীর সমস্যা হলো দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ সেবন করতে পারে না বা করতে চান না। এ ওষুধ একবার শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না। তিন -পাঁচ বছর খিঁচুনি যদি সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণ হয় তখন ওষুধটি বন্ধ করা যায়। এছাড়া নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়।

বিএসএমএমইউ’র শিশু নিউরোলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, শুধুমাত্র ‘ইইজি’ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃগী রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ দিয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ১০ শতাংশ খাবারের মাধ্যমে ও ইনজেকশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সম্পূর্নভাবে রোগমুক্তি সম্ভব নয়। এর বাইরে ১০ শতাংশ কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। কারণ এদের সার্জারির প্রয়োজন হয়। এ সার্জারির ব্যবস্থা আমাদের দেশে খুবই সীমিত।

তিনি বলেন, যেমন- জ্বরের খিঁচুনি হলে, যখন জ্বর আসবে তখন খিঁচুনির ওষুধ খেতে হয়। ম্যানিনজাইটিস রোগের লক্ষণ হিসেবে খিঁচুনি হলে সাথে সাথে ভালো হয়ে যায়। কোন চিকিৎসাই লাগে না। অর্থাৎ কোন অসুখের কারণ ছাড়া খিঁচুনি হলে তখন বুঝতে হবে এটি খিঁচুনির লক্ষণ। রোগটি  বিভিন্ন বয়সের মানুষের হতে পারে। ধরণ ও বয়স অনুযায়ি চিকিৎসা আলাদা।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে মৃগী হলে অনেক সময় একে জিনে ধরা, ভূতের আসর হিসেবে ধারণা করা হয়, ঝাড়ফুঁক, তাবিজকবজ করা হয়। এটি ঠিক নয়। মৃগী আসলে স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিলতা। এজন্য সবাইকে  সচেতন হতে হবে।

বিএনএ/এমএফ/এইচমুন্নী

Loading


শিরোনাম বিএনএ