বিএনএ, ডেস্ক : নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার আগে, মুফতি কাজী ইব্রাহিম তাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করতেন এবং তার গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে “সুদভিত্তিক ব্যবসা” হিসেবে অভিহিত করতেন। তিনি যুক্তি দিতেন যে, ইসলামে সুদ সম্পূর্ণ হারাম, তাই ড. ইউনূসের এই ব্যবসা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
কিন্তু মুফতি কাজী ইব্রাহিম তার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে আসেন। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হওয়ার পর তিনি তার ঘোর সমর্থক হয়ে উঠেছেন এমনকি ড. ইউনূসকে “আল্লাহর মনোনীত নেতা” এবং তার সরকারের বিরোধিতা করাকে “হারাম” বলে আখ্যায়িত করেন। তার এই নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তন বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

জামায়াত ইসলামীর সমর্থক কাজী ইব্রাহিমের এই ধরনের বক্তব্য “কুফরি” মতবাদের শামিল, কারণ ইসলামে “আল্লাহ মনোনীত নেতা” বা নবুয়তের মতো পদকে ভোটের ঊর্ধ্বে রাখার ধারণাটি গণতন্ত্র বা প্রচলিত ইসলামি খেলাফতের ধারণার সাথে মেলে না। তাহরিকে খাতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ড. সৈয়দ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী তাকে ‘কাফের’ আখ্যায়িত করে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে তওবা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ইসলামী বক্তা মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে কাফের ফতোয়া দেওয়ার পরও বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া অব্যাহত রাখেন । এবার তিনি সরাসরি আঘাত করেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘একাত্তর’কে।
এনসিপি নেতা সারজিস আলমের একটি উর্দু কবিতা এবং স্ত্রীর বর্ণনা দিয়ে কাজী ইব্রাহিম বলেছেন, একাত্তর প্রজন্ম ‘নিকৃষ্টতম প্রজন্ম’ ছিল, ‘একাত্তর প্রজন্মের মতো খারাপ প্রজন্ম মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে ছিল না। একাত্তর প্রজন্মটা এত মিথ্যুক, এদের নেতা মিথ্যুক, এদের কর্মী মিথ্যুক, এদের সমর্থক মিথ্যুক, এদের যুদ্ধ মিথ্যা, এদের স্বাধীনতা মিথ্যা, এদের সবকিছু মিথ্যা।’
কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ৭১ এর পুরোটাই পিলখানার মতো ভারতীয় চক্রান্ত ছিল। পুরোটাই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। এই দেশ, এই জাতিকে খুন করেছে ৭১-এ ভারত আর আওয়ামী লীগ মিলে। ঠিক নয় কি? পিলখানায় দেখিয়েছে যে, এরা বিদ্রোহ করেছে ডালভাত বিদ্রোহ। শয়তানি কথা।’
এই ইসলামী বক্তা বলেন, কোরআন বিরোধী ও নবীর লাইফ স্টাইল বিরোধী অশিক্ষার কারণে পিল খানায় সেনা অফিসাররা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী বক্তা মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইসলাম, কোরআন, সুন্নাহ বিরোধী বক্তব্য, সেনাবাহিনীর কোরআন শিক্ষার অভাব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করে দেওয়া বক্তব্য নেট দুনিয়া তোলপাড় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাব নিরবতা পালন করে যাচ্ছে।
শামীমা চৌধুরী শাম্মী
![]()

