32 C
আবহাওয়া
১:৪৬ অপরাহ্ণ - জুন ২৪, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা নিয়ে চবিতে আলোচনা

পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা নিয়ে চবিতে আলোচনা

পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা নিয়ে চবিতে আলোচনা

বিএনএ, চবি: পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও উন্নয়নে সশস্ত্র সংঘাত ও তথ্য বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা ২টায় চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজের (সিসিআরএসবিডি) উদ্যোগে চবি সিনেট মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সিসিআরএসবিডি’র সদস্য তন্ময়ী হাসানের সঞ্চালনায় ধারণাপত্র তুলে ধরেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ।

চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে। এছাড়াও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকছড়ি মং রাজবাড়ির রাজকুমার সুই চিং প্রু, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

সিসিআরএসবিডি দক্ষিণ পূর্ব বাংলাদেশের একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। এর কাজের পরিধিতে রয়েছে নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি, সংঘাত প্রশমন, আঞ্চলিক স্থিতিশীল, যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ। ধারণাপত্রে সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। ইতিহাস ও অধিকার সম্পর্কে তাদেরকে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের মুখে কোনো সমস্যার সমাধান করা কখনোই সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই আমাদের জ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অভিমতকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে পৌঁছে দিতে হবে।

সিসিআরএসবিডির পরিচালক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় চীন-লুসাই নামে একটি সেমিনার করা হয়। সেখানে এই অঞ্চলকে তিনটি ভাগ করা হয়। এতে অঞ্চলটি বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার এই তিন অংশ বিভক্ত হয়ে যায়। শাসন ভার পায় বার্মার কমিশনার। পরে নেতাজি সুভাষ বসু এই বৈচিত্র্যময় জাতীয়তাবাদকে এক করে ফেলেন। কিন্ত এখন উগ্র জাতীয়তাবাদের একটা ধারণা বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে জো জাতীয়তাবাদের পুনরুত্থানের ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু খুব দ্রুত পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন। ইতিমধ্যে নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো সংগ্রহের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এগুলো মূলত তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই। যুবসমাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, আমাদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু ভালো করে জানতে হবে প্রকৃত ঘটনা কি? প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে, আলোচনায় বসতে হবে, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।

সেমিনারে মানিকছড়ি মং রাজবাড়ির রাজকুমার সুই চিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পরিবর্তে বিভিন্ন অশান্তি বিরাজমান। তাই প্রথমে অশান্তির কারণগুলো চিহ্নিত করতে করে সেগুলো সমাধান করতে হবে। ভূমি বিরোধ ও জাতিগত বৈষম্য এবং বিদ্বেষ এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন সিয়েরালিওন ও নেপালের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুবসমাজের ভূমিকা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ম্রৌ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ রয়েছে। আমরা চাই এই অঞ্চলের শান্তি এবং উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক। এই লক্ষ্যে তরুণ ছাত্র ও যুবসমাজকে তথ্য বিভ্রান্তি থেকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানাই।

বিএনএনিউজ/ সুমন/ বিএম/এইচমুন্নী

Loading


শিরোনাম বিএনএ