Bnanews24.com
Home » প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসু-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
চট্টগ্রাম টপ নিউজ বাংলাদেশ সব খবর

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসু-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার এবারের ভারত সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে ভারত বিনাশুল্কে বাংলাদের পন্য তৃতীয়দেশে রপ্তানী করার সুযোগ করে দিয়েছে। এমনিতেও বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সে সম্পর্কে আরো নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আর সেটির বড় প্রমান হলো ২০টি পণ্য ছাড়া সকল পন্য ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে বিনাশুল্কে তৃতীয় বিশ্বে রপ্তানী করার সুযোগ দেয়া। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

শুক্রবার(৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান হলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী চট্টগ্রামের ৩৬ জন সাংবাদিকের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহে সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে সে তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। এর বাইরেও আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। অথচ সাংবাদিকদেরও দাবি ছিল একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করার। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট সংসদীয় আইনের ভিত্তিতে গঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর সরকার অনুদান দেয়। এখন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট সাংবাদিকদের জন্য একটি ভরসার স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে এককালীন ৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। আর একজন সাংবাদিক অসুস্থ হলে তাকে প্রয়োজন অনুসারে সহযোগিতা করা হচ্ছে। করোনা কালে উপমহাদেশের কোন দেশে এ ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়নি অথচ বাংলাদেশে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে করোনাকালীন সহায়তা হিসেবে প্রায় ৪ হাজার সাংবাদিকের মাঝে করোনাকালীন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় প্রধানমন্ত্রী আরো ১০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। সে টাকা দিয়ে আমরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ও সহযোগিতা করেছি, সে সহযোগীতা এখনো চলমান আছে। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে ওয়েজবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মিডিয়া হাউজে গ্রুপ-বীমা করার অনুরোধ করেন। এতে করে একজন সাংবাদিক অসুস্থ হলে বীমা কোম্পানী থেকে টাকা পাবে আবার মৃত্যুবরণ করলেও টাকা পাবে। গ্রুপ-বীমা করার জন্য খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। শুধু ইচ্ছাশক্তি থাকলে এটি করা সম্ভব হবে।

এসময় তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চেক বিতরণ করার সময় কে কোন দলের, কোন মতের, সেটা আমি কখনো বিবেচনা করিনি। কারন আমি মনে করি, আমি দলীয় সরকারের মন্ত্রী। কিন্তু যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছি তখন আমি চিন্তা করি রাষ্ট্রের সাহায্য যেন সবাই পায়। যারা প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদেরকেও কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের জন্য অনেক কিছু করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা প্রেস ক্লাবের নতুন ২১ তলা ভবনের নকশা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখনো এ বাংলার মানুষের জন্য ‘কলকাতা’ স্বপ্নের শহর। সেখানকার প্রেস ক্লাবে গেলে আপনি হতাশ হবেন। কারন সেখানে ছোট্ট একটা ঘরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম চালায়। তাও প্রেসক্লাবের নিজস্ব সম্পত্তি নয়। এছাড়াও ভারতের জাতীয় প্রেসক্লাবে গেলেও আপনার মন ভরবে না। সেখানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলের মত একটি হল নেই।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস , বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল , চট্টগ্রাম ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি শহিদুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার , চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলামসহ প্রেস ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার অসংখ্য সাংবাদিকবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ।

বিএনএনিউজ২৪