Bnanews24.com
Home » ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বড় বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
আওয়ামী লীগ কভার করপোরেট সংবাদ জাতীয় বাংলাদেশ ব্যবসা ভারত সব খবর

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বড় বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ

বিএনএ ডেস্ক: বাংলাদেশকে বিনিয়োগের সবচেয়ে উদার দেশ। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের এদেশের অবকাঠামো, শিল্প-কারখানা, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) নয়া দিল্লিতে অবস্থানরত প্যালেসের বলরুমে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) যৌথভাবে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের অবকাঠামো, প্রকল্প, শিল্পকারখানা, জ্বালানি এবং পরিবহন খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতীয় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কম সময়ে, সাশ্রয়ী ব্যয় এবং স্বল্প সম্পদে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়ের নিশ্চয়তাসহ বাই-ব্যাক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই অঞ্চলের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা, আকর্ষণীয় প্রণোদনা নীতি এবং ধারাবাহিক সংস্কার প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে শিল্প, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য, মোংলা এবং মিরেরশরাইতে দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে বিনিয়োগ করতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনুরোধ জানান শেখ হাসিনা। বিনিয়োগের ফলে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের সদিচ্ছাকে কাজে লাগানোর পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা তাদের পণ্য শুধুমাত্র ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতেই নয়, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতেও রপ্তানি করতে সক্ষম হবেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ থেকে ভারতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য রোগী আসে।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বৈঠক
বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বৈঠক

শেখ হাসিনা বলেন, হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিক এখন বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর বন্ধুত্বের বন্ধন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে এবং বিকাশ লাভ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এটি আনন্দের বিষয় যে চলমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। অনেক বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অর্থনীতি ভারত। ২০৫০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে। বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ ভারতকে ২০২১-২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসাবে তুলে ধরেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতক প্রবৃদ্ধি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭.০ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.০ শতাংশ অতিক্রম করেছে। বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে, মাথাপিছু আয় প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার থেকে তিনগুণ বেড়ে আজ ২,৮০০ মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে৷ এছাড়া ২০২১-২০২২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়ে ২১,০৩১.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। এই সূচকগুলি বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিকে প্রতিফলিত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভারসাম্য অনেকটাই ভারতের পক্ষে ছিল। বর্তমানে উন্নত উৎপাদন ক্ষমতার সাথে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘তাই আমরা ভারতীয় আমদানিকারকদের বাংলাদেশী পণ্যগুলির দিকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য আমন্ত্রণ জানাই, যেগুলি তারা দূরের দেশগুলি থেকে উচ্চ মূল্যে আমদানি করছেন। বৃহত্তর লাভের জন্য, বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতাকে বাণিজ্যের বাইরে যেতে হবে। এতে বিনিয়োগ, অর্থ, পরিষেবা, প্রযুক্তি স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে স্থাপন করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহের মোট পরিমাণ ছিল ১৩৭০.৩৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে ভারত থেকে এর অনুপাত ছিল ১৫.৭৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা এফডিআই প্রবাহের মাত্র ১.১৫% ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশে বেশ কিছু অবকাঠামো প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-৬, এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং দীর্ঘতম পানির নিচের সড়ক টানেল কর্ণফুলি টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল এবং আরও কিছু মেগা-প্রকল্প।
তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে, তা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে।

বিএনএ/এ আর