বিএনএ, বিশ্বডেস্ক : ইরানের মাটিতে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ বৈমানিককে উদ্ধারের অভিযান নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তেহরান।সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযানের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন পাইলট কোহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন বাহিনী অবতরণের চেষ্টা করেছিল মধ্য ইরানে। এই দুই এলাকার মধ্যে দূরত্ব অনেক।’
তাদের দাবি, পাইলট উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্য ছিল মূলত ইরানের ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’ চুরি করা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটির একজন ক্রুকে আগেই উদ্ধার করা হলেও অপরজন নিখোঁজ ছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের দুর্গম পাহাড়ের অনেক গভীর থেকে ওই সাহসী বৈমানিককে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, শত শত মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্য, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার এই বড়মাপের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় ইরানি বাহিনীর সঙ্গে তাদের ব্যাপক গোলাগুলিও হয়। সামরিক প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই শত্রুর হাতে না পড়ে, সে জন্য উদ্ধার শেষে অকেজো হয়ে যাওয়া নিজেদের দুটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করে দেন মার্কিন সেনারা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘বীরত্বপূর্ণ’ উদ্ধারের দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ‘ব্যর্থ অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান।
সন্দেহ প্রকাশ করে ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরি করার জন্যই যে এই প্রতারণামূলক অভিযান চালানো হয়নি, সেই আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’ পুরো অভিযানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনএ/ওজি
![]()

