Bnanews24.com
এক নজরে খেলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় সিরিজ জয়

বিএনএ, খেলা : দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জেতা সফরকারীদের জন্য দুর্লভ অর্জন। যে সাফল্য দুইবার উদযাপন করেছে অস্ট্রেলিয়া। এবার সেই কৃতিত্বে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ভাগ বসালো পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুইবার ওয়ানডে সিরিজ জিতলো তারা। ২০১৩ সালের সফরের মতো এবারও ২-১ এ সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।

আইপিএলের কারণে শেষ ম্যাচে তারকা ক্রিকেটারদের পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে এই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে পাকিস্তান। কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি ও আনরিখ নর্কিয়ার অনুপস্থিতিতে দুর্বল বোলিং লাইন আপকে সামলে ৭ উইকেটে ৩২০ রান করে অতিথিরা। ফখর জামানের টানা সেঞ্চুরি এবং বাবর আজম ও ইমাম উল হকের ফিফটির পর হাসান আলীর ছোট্ট ঝড় দক্ষিণ আফ্রিকাকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেয়, যা তাড়া করতে গিয়ে ২৯২ রানে অলআউট স্বাগতিকরা। পাকিস্তান ম্যাচটি জেতে ২৮ রানে।

ইমাম ও ফখরের ব্যাটে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল ধীরগতির। প্রথম পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৩ রান তোলেন তারা স্কোরবোর্ডে। ওই সময়ের মধ্যে তিন চারের প্রথমটি আসে সপ্তম ওভারে। একই গতিতে দুজন ছুটেছেন আরও ১১ ওভার। ১৯তম ওভারে দলীয় স্কোর একশ ছাড়ানোর আগে নবম ওয়ানডে ফিফটি করেন ইমাম, সিরিজে নিজের দ্বিতীয় পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৫৯ বল খেলে। ২২তম ওভারে ১১২ রানে কেশব মহারাজের কাছে ভাঙে এই জুটি। ইমাম ৭৩ বলে ৫৭ রান করে কাইল ভেরিয়েন্নেকে ক্যাচ দেন।

অধিনায়ক বাবরের সঙ্গে ফখরের জুটি পাকিস্তানকে আরও দৃঢ় ভিত গড়ে দেয়। ৯০ বলে ৯৪ রানের এই জুটির শুরুতে ৬২ বলে ফিফটি করেন ফখর। আগের ম্যাচে রেকর্ড ১৯৩ রান করা এই বাঁহাতি ওপেনার ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন। ৩১তম ওভারে লুথো সিম্পালাকে টানা তিনটি চার মারেন।

৩৫তম ওভারে বেউরান হেনড্রিক্সের বলে একটি রান নিয়ে ৯৯ বলে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন ফখর। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক। পরের ওভারে মহারাজের বলে উইকেটকিপার হেনরিখ ক্লাসেনের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি, ১০৪ বলে ৯ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস সেরা ১০১ রান।

ফখরের বিদায়ের পর বাবরের সঙ্গে বড় ধরনের জুটি গড়তে পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। মিডল অর্ডারে ফাটল ধরলেও বাবর এগিয়ে নেন দলকে। শেষ বল পর্যন্ত খেলেছেন অধিনায়ক। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মারলেই সেঞ্চুরি হয়ে যেতো। কিন্তু বাউন্ডারির একেবারে কাছে ভেরিয়েন্নের ক্যাচ হন বাবর। আক্ষেপে পোড়েন ৬ রানের। ৮২ বলে ৭ চার ও ৩ ছয়ে ৯৪ রান করেন বাবর।

৪৯তম ওভারে চারটি ছক্কা মেরে দলকে তিনশর ঘরে নিয়ে যান হাসান আলী, যার তিনটি এসেছে শেষ ৩ বলে। ১১ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেওয়ায় তার অবদানও কম নয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন মহারাজ। দুটি পান এইডেন মার্করাম।

আগের ম্যাচের তিন হাফ সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার ও রাসি ফন ডার ডাসেন ছিলেন না প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনে। জান্নেমান মালানকে নিয়ে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেন মার্করাম। তিনি ১৮ রানে ফিরে যান ৫৪ রানের জুটি গড়ে। উইকেটটি নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। অভিষিক্ত উসমান কাদির ৭৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন জেজে স্মাটসকে (১৭) বোল্ড করে।

মালানকে নিয়ে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ২৪তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে থিতু হওয়া এই দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় ধাক্কা দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। তাদের ৫০ রানের জুটি ভেঙে দেন মালানকে ৭০ রানে এলবিডাব্লিউ করে। বাঁহাতি স্পিনারের বলে বাভুমা বোল্ড হন ২০ রান করে। ১৪ বলের ব্যবধানে নওয়াজ তৃতীয় উইকেট নেন ক্লাসেনকে (২) ব্যাট-প্যাডের ফাঁদে ফেলে।

১৪০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াইয়ে ফেরান অ্যান্ডিল ফেলুকোয়ায়ো ও ভেরিয়েন্নে। ১০৮ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪০ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে প্রথম ওয়ানডে ফিফটি করেন ভেরিয়েন্নে। আর ১৩ বল খেলে থামতে হয় তাকে। ৫৩ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে ৬২ রান করে হারিস রউফের বলে উসমানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫৫ বলে ফিফটি করে পরের ওভারে তাকে অনুসরণ করে সাজঘরে ফেরেন ফেলুকোয়ায়ো। হাসানের শিকার হওয়ার আগে তার ৫৪ রান আসে ৬১ বলে।

এই দুজনকে ফিরিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় পাকিস্তান। হেনড্রিক্সকে (১) ফেরান হারিস। শাহীন তার শেষ দুই ওভারে মহারাজ (১৯) ও ডারিন ডুপাভিলিয়নকে (১৭) বোল্ড করে প্রোটিয়াদের গুটিয়ে দেন। ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

শাহীন ৯.৩ ওভারে ৫৮ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার নওয়াজের, ৭-০-৩৪-৩। হারিস পান দুটি উইকেট।