বিএনএ, ঢাকা: “ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোলিউশন” নামে একটি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে, ভারতের নয়াদিল্লীর জাগারনট পাবলিশার্স নামের একটি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং সহিদুল হাসান খোকন রচিত এই বইটি প্রকাশ হওয়ার আগেই অংশ বিশেষ ফাঁস হয়েছে। এতেই শুরু হয়ে গেছে তোলপাড়। বইটিতে শেখ হাসিনার পতনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি- সিআইএ এর নিখুঁত পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে!

ভারতের news18 bangla নামে একটি অনলাইন মিডিয়া ‘ইউনূস, খালেদা জিয়া নন…! শেখ হাসিনার পিঠে ছুরি মেরেছিলেন কে? ফাঁস হয়ে গেল চাঞ্চল্যকর চক্রান্ত শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত ৩রা নভেম্বর Sanjukta Sarkar এর লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি উত্তাল। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সামরিক অভ্যুত্থানের গুজবের মধ্যে এবার ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে “ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোলিউশন” নামের একটি বই
বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিলেন তাঁরই আত্মীয় এবং বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান “সিআইএ-র নির্দেশে”।
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উদ্ধৃতি দিয়ে বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে শেখ হাসিনার অভ্যুত্থান ছিল “একটি নিখুঁত সিআইএ পরিকল্পনা”।
বইটিতে আসাদুজ্জামানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমরা বুঝতেও পারিনি যে সিআইএ ওয়াকারকে আটকে রেখেছে। এমনকি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বাংলাদেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছে যে সেনাপ্রধানই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।”
তিনি আরও বলেছেন যে মূলত মার্কিন স্বার্থরক্ষার জন্যই দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী নেতাদের – মোদি, শি জিনপিং এবং হাসিনাকে- দুর্বল করাই ছিল আমেরিকার লক্ষ্য। বইটিতে আরও একটি চমকপ্রদ দাবি করা হয়েছে যে এই ষড়যন্ত্রের পিছনে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও একটি প্রধান কারণ ছিল।
এই দ্বীপটি মায়ানমার সীমান্তের কাছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ক্ষমতা হারানোর আগে, হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, “আমি যদি এই দ্বীপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিই, তাহলে আমার সরকার টিকে থাকতে পারে, কিন্তু এটি দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা হবে।”
“ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোলিউশন” নামের বইটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে জেনারেল ওয়াকার হাসিনার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী সংগঠন এবং জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, “যেমন মহাভারতে অভিমন্যুকে তাঁর নিজের লোকেরা ঘিরে ফেলে হত্যা করেছিল, ঠিক তেমনই ওয়াকার হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য ইসলামী শক্তির সঙ্গে জোট গঠন করেছিলেন।”
লেখকদের মতে, এই কথোপকথনটি দিল্লির একটি হোটেলে হয়েছিল, যেখানে আওয়ামী লীগের দুই প্রাক্তন সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। বইটিতে আরও বলা হয়েছে যে ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের জুন মাসে সেনাপ্রধানের পদ গ্রহণ করেন এবং ৫ অগাস্ট হাসিনাকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
“ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোলিউশন” বইয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এটি ছিল জেনারেলের “প্রথম গোপন মিশন”। যিনি তাঁকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন তাঁকেই উৎখাত করাই ছিল জেনারেলের মূল লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, বইটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক চলছে। গত ১১ অক্টোবর, গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে হাসিনার শাসনামলে বিরোধী দলীয় নেতাদের নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত ১৫ জন কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনী আটক করেছে। ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ওয়াকারকে সৌদি আরব সফর বাতিল করতে বাধ্য করে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আনন্দ বাজার পত্রিকা ৩রা নভেম্বর ‘সেনাপ্রধান ওয়াকার সিঅআইএর চর, হাসিনাকে সরানোর ষড়যন্ত্রও তারই’! বাংলাদেশে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি শিরোনামে পৃথক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে news18 bangla তে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হয়।
সৈয়দ সাকিব
![]()

