20 C
আবহাওয়া
৯:৩৭ অপরাহ্ণ - জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » হাইকোর্টে রিট, খালেদা জিয়া ইস্যু, এনসিপির দাবিতে সংসদ নির্বাচন অনিশ্চিত!

হাইকোর্টে রিট, খালেদা জিয়া ইস্যু, এনসিপির দাবিতে সংসদ নির্বাচন অনিশ্চিত!


বিএনএ, ঢাকা : নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বার বার বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে., কোনো অপশক্তি নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। এতে দেশের মানুষ আস্থা আনতে পারছিলেন না। সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন গত ২৯ নভেম্বর বলেছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার  বললেন, সব প্রস্তুতি শেষ, আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি সংকট উত্তরণের পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা নির্বাচন কমিশনকে বলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

৩রা ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে দলের  মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর তফসিল ঘোষণা করলে তখন কাজটা অনেক সহজ হবে। গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, মনে করছেন কিংস পার্টি এনসিপির কথাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মনের কথা। এছাড়া  জামায়াত ইসলামী মুখে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বললেও ভিতরে ভিতরে তারা এখনই নির্বাচন চায় না। কেননা, দলটির এখনো এককভাবে ক্ষমতায়  যাওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত হয়নি। দলটি মনে করে নির্বাচন যত দেরি হবে, দখল, চাঁদাবাজি, অন্তর্দলীয় কোন্দলে বিএনপি জনপ্রিয়তা হারাবে। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীর জনপ্রিয়তা বাড়বে। জামায়াত ইসলামী ও তাদের জোট সঙ্গী ৮ দল সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের  দাবি জানিয়েছে।

জামায়াত ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টির মাধ্যমে মূলত নির্বাচন পিছানোর প্লট তৈরি করতে চায়, এমনটি মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এই অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৩রা ডিসেম্বর রিটটি করেন।

বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে ইয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

রিট আবেদনকারী বলছেন, নির্বাহী বিভাগের ব্যক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচার বিভাগের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব জনবল থাকতে হবে। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া হয়। নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের চাহিদা অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হয়।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ কেন আইনগত কতৃত্ব–বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। নিজস্ব পদোন্নতি পদ্ধতির মাধ্যমে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের থেকে ইসি সচিব নিয়োগের পরিবর্তে নির্বাহী বিভাগ থেকে ইসি সচিব নিয়োগ কেন আইনগত কতৃত্ব–বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।

একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে নিয়োগ দিতে এবং নিজস্ব পদোন্নতি পদ্ধতির মাধ্যমে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের থেকে ইসি সচিব নিয়োগের লক্ষ্যে ‘ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। আর রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে রিটে।

রিট দায়েরের পর আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে মতবিনিময় করেছে। তাঁদেরকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আবারও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আরেকটি প্রভাবিত নির্বাচন হবে, তা নিশ্চিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সর্বোপরি হাইকোর্ট রিট, সবমিলিয়ে কোন মতে ১০-১২ দিন পেছানো গেলে রোজার আগে ফেব্রুয়ারিতে আর নির্বাচন হবে না।   বাংলাদেশ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়—এটি অর্থনীতি, সমাজ, প্রশাসন, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরও কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য, জবাবদিহিমূলক সরকার গঠিত হলে দেশের বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। আর নির্বাচন বিলম্বিত হলে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

বিএনএনিউজ/শামীমা চৌধুরী শাম্মী/এইচ.এম।

Loading


শিরোনাম বিএনএ