28 C
আবহাওয়া
৮:৩৩ অপরাহ্ণ - মে ৫, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » দুই উপদেষ্টা ও এনসিপির ডা. জারার রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়?

দুই উপদেষ্টা ও এনসিপির ডা. জারার রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়?


বিএনএ, ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হতে পারে ডিসেম্বেরর দ্বিতীয় সপ্তাহে। এমনটি জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশন। তারপরও দেশের মানুষ পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। কেননা শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও তারা এখনো পদত্যাগ করেনি। কবে নাগাদ পদত্যাগ করবেন বা আদৌ করবেন কীনা দুই উপদেষ্টার কেউ এখন পর্যন্ত এ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। ফলে সম্ভাব্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

YouTube player

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম পদত্যাগ ও নির্বাচন করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ঢাকা থেকে ভোট করবেন, সেটা আগেই জানিয়েছেন। তবে তিনি বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), নাকি স্বতন্ত্র—কোন পথে হাঁটবেন, সেটা এখনো খোলাসা করেননি।

প্রসঙ্গত, মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ এবং নাহিদ ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ ছেড়ে গত ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠন করেন এবং আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।

আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।

তবে মাহফুজ আলমের ঘনিষ্ঠ কোনো কোনো সূত্র বলছে, তিনি পদত্যাগ না করে এই সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদে থেকেও যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। আর যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে তফসিলের আগে সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন।

আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে। আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য নির্বাচনী আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা না করা, তাঁর সমর্থকদের মুখে এনসিপির সমালোচনা এবং বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব পোষণ অনেকেই মনে করছেন, আসিফ মাহমুদ এনসিপি থেকে প্রার্থী না হয়ে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন।

অন্যদিকে মাহফুজ আলম যদি নির্বাচন করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন।

এনসিপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটিতে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের প্রভাব রয়েছে। দুজনের চাওয়া ছিল, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা বা জোট করবে এনসিপি। এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কিছু আলাপ–আলোচনাও হয়েছিল। তবে এখন সেটার আর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

বরং এনসিপি তৃতীয় একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এ জোটের জন্য এনসিপির সঙ্গে আলোচনায় আছে এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। যদিও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশকে এ জোটে রাখা নিয়ে এনসিপির দিক থেকে আপত্তি রয়েছে। আবার জোটে আসা নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের নেতাদের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। এ দুটি কারণে নতুন জোট গঠনের বিষয়টি এগোচ্ছে না।

ঢাকা-১০ ও লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। সেটি সরকারের এ দুই তরুণ উপদেষ্টার জন্যই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে জামায়াত এ দুই আসনেই প্রার্থী দিয়েছে।

আসিফ মাহমুদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়। তিনি সেখানকার ভোটার ছিলেন। গত ৯ নভেম্বর তিনি ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের ভোটার হওয়ার আবেদন করেন। ওই দিন আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচন করবেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তখন আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার কথা ভাবছেন।

তবে আসিফ মাহমুদ বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান বলেও আলোচনা আছে অনেক দিন ধরে। তিনি বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে, নাকি সরাসরি এনসিপি থেকে ভোট করবেন—এ নিয়ে সেটা খোলাসা করেনি।

গত পহেলা নভেম্বর এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে আসিফ মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে রাখা হয়নি। এর পর থেকে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি ও দলটির শীর্ষ নেতাদের কারও কারও সমালোচনায় সোচ্চার দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া মাহফিল করেন আসিফ মাহমুদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কেরা। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আসিফের সমর্থকেরা।

ঢাকায় আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য নির্বাচনী আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা না করা, তাঁর সমর্থকদের মুখে এনসিপির সমালোচনা করা এবং বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল মনে হতে পারে, এমন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা—এসব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই মনে করছেন, আসিফ মাহমুদ বিএনপি থেকে ভোট করার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায় এই ছাত্র উপদেষ্টা বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে পারেন। আবার স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচন করতে পারেন। কিন্তু এনসিপিতে তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার (আসন) ভোটার। তিনি এই আসনে বিএনপির থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমন এমন আলোচনা এলাকায় অনেক দিন ধরেই চলছে।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা আজিজুর রহমান গত ২১শে আগস্ট লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।এর আগেও তিনি ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই মাহবুব আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। মাহফুজ আলম যদি বিএনপি’র টিকেটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে মাহবুব আলমও এনসিপির পদ ছাড়তে পারেন।

প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি আগে থেকেই এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।

এদিকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে। তবে ডা. জারা এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেননি।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি। সেক্ষেত্রে জারা বিএনপি থেকে নির্বাচন করলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। তার ইঙ্গিত রয়েছে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা জারার এক ফেসবুক পোস্টে।

ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহ আগে একটি অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার অল্প সময়ের সাক্ষাৎ হয়। সেই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনেই বেগম জিয়া তাকে বলেছিলেন, ‘দেশে থাকো, দেশের জন্য কাজ করো।’

ডা. জারার ভাষায়, অসংখ্য মানুষ এ ধরনের উপদেশ দিলেও বেগম খালেদা জিয়ার কণ্ঠে এই কথার গভীরতা, ইতিহাস এবং দায়বদ্ধতা সম্পূর্ণ আলাদা।

বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়ে ডা. জারা আরও লিখেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও খালেদা জিয়া দেশ ও দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন। বেদনা, অপমান ও দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান, নীতিতে অটল থেকেছেন। বছরের পর বছর যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দৃঢ়তার দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা সবার জন্য অনুকরণীয়।

প্রসঙ্গত, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। ঢাকা ১৮ আসনটি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে ছেড়ে না দিলে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে নির্বাচনী লড়াইয়ে দেখা যাতে পারে এমনটি মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সৈয়দ সাকিব

Loading


শিরোনাম বিএনএ