29 C
আবহাওয়া
১২:৪৩ অপরাহ্ণ - মে ১৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » মৃত্যুমিছিল থামছেই না: ইউনূস-নুরজাহানের কাঁধে ৩১১ শিশুর লাশ!

মৃত্যুমিছিল থামছেই না: ইউনূস-নুরজাহানের কাঁধে ৩১১ শিশুর লাশ!


বিএনএ, ডেস্ক : ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় চলছে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্র-জনতার সড়ক অবরোধ- বিক্ষোভ মিছিল। শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল রাজপথ। ৪ বছরের শিশু আহাদ তার বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচে রাস্তার গোলযোগ দেখছিল। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি সরাসরি তার চোখে বিদ্ধ হয় এবং মাথায় আটকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই সে মারা যায়।

YouTube player

এই একটি মাত্র শিশুর মৃত্যু কেঁপে উঠেছিল পুরো বাংলাদেশ। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল। সেই আগুনেই ৫ই আগস্ট পতন হলো শেখ হাসিনা সরকারের। ৮ই ডিসেম্বর ক্ষতাসীন হয়েছিলেন বিশ্ববরেণ্য নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

দেশের মানুষ ভেবেছিলেন, নতুন বাংলাদেশে প্রতিটি শিশুর জীবন হবে সুরক্ষিত। কিন্তু আজ? মে ২০২৬-এর এই বিষাদময় দিনে আমাদের হিসেব মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। গত ৫০ দিনে ৩১১জন শিশু মারা গেছে । না, কোনো বুলেটে নয়, স্রেফ হামের টিকার অভাবে!

দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন শুধু বাতাস ভারী হয়ে আসছে বাবা-মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে। যে শিশুদের হাসিতে ঘর মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, আজ তারা হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এই মৃত্যু কি কেবলই রোগ থেকে? নাকি এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ প্রশাসনিক ব্যর্থতা? কেন সময়মতো টিকা আসেনি? আজ এই সংকট নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়।

সরকারি তথ্য বলছে, গত মে মাসের শুরু পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৩১১ জন শিশু মারা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। প্রতিদিন মৃত্যু বাড়ছে। রাজধানীর বড় বড় শিশু হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল—কোথাও ঠাঁই নেই। টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকলে যে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব ছিল, আজ তারা বিনা চিকিৎসায় বা টিকার অভাবে চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—সরকার এতদিন কী করছিল?
এই সংকটের মাঝেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রাজপথে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম দেড় বছর দায়িত্বে থাকাকালীন প্রয়োজনীয় হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জনতা এখন ক্ষুব্ধ। অভিযোগ সরাসরি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধেও। ড. ইউনূসকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসেবে দায়ী করে শনিবার ঢাকার মিরপুর গ্রামীন ব্যাংকের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ’হিউম্যানটেরিয়ান ইউনিটি উইথ মরালিটি’ নামে একটি সংগঠন।

অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম এবং ড. ইউনূস প্রশাসনের একগুঁয়েমির কারণে ভেঙে পড়েছে দেশের টিকাদান কর্মসূচি। ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফ সতর্ক করেছিল, কিন্তু ইউনূস সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আনা বন্ধ করে দিয়ে ‘ওপেন টেন্ডার’ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে থমকে যায় টিকা আমদানি। যে হাম শেখ হাসিনা সরকার তথা বাংলাদেশ প্রায় জয় করেছিল, সেই হাম আজ ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে।
কিন্তু অদ্ভুত এক নীরবতা আমাদের চারদিকে। কেন রাজপথ আজ নিস্তব্ধ? কেন মিডিয়ার ক্যামেরায় সেই আহাজারি নেই? স্বাস্থ্যখাতের এমন চরম ব্যর্থতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের পরিচিত সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক তীক্ষ্ণ ও কড়া বার্তায় তিনি এই শিশুমৃত্যুকে নিছক কোনো ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত অবহেলার কারণে হওয়া ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন। এই বিপর্যয়ের জন্য তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে দায়ী করেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী লেখেন, “এক দিনে ১৭ জন, আর মাত্র দেড় মাসে ৩১১জন শিশু হামে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেল! এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, স্রেফ ইউনূস গং এর মূর্খতা আর ‘ড্যাম কেয়ার’ ভাবের কারণে হওয়া হত্যাকাণ্ড।”

এর আগে এই মৃত্যুর দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, এই অবুঝ শিশুগুলো কি পতিত সরকারের দোসর ছিল যে তাদের এমন করুণ পরিণতি ভোগ করতে হলো? তার এই বক্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ভাষায় পরিণত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ড. ইউনূসসহ ২৪ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে । এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি ব্যবস্থাপনার টিকা কার্যক্রম বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলেই এই ভয়াবহ মহামারি ছড়িয়েছে। ১৩ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং নাগরিক সমাজ এই মৃত্যুকে ‘প্রশাসনিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহানের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করার দাবি জানাচ্ছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা। জুলাইয়ে নিহত শিশুদের মৃত্যু নিয়ে যারা আকাশ-পাতাল এক করেছিলেন, আজ ৩১১জন শিশুর মৃত্যুতে তারা কেন নিশ্চুপ? জনমনে একটিই প্রশ্ন—দেশ কি তবে কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় চলছে?

ড. ইউনূস এখন ক্ষমতায় নেই। ক্ষমতায় বিএনপি। তবুও সবাই মুখে কুলুপ এটেছে। গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলেও কি সত্য বলা বারণ? নাকি এক অদৃশ্য ‘ডিপস্টেট’ দেশের সব সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে? এই নীরবতা কি তবে অপরাধের আড়াল?

বিএনএ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ
৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পাকিস্তান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল,ইরানও যুদ্ধ ফিরতে প্রস্তুত চট্টগ্রামে ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশনের ‘এডাল্ট ভ্যাকসিন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেপ্তার ধানের শীষ জানে ফারাক্কার সমাধান কীভাবে করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি-স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্য করা হবে: প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ৭ জুন বিশেষ অভিযানে যাত্রাবাড়ী থেকে ১৯ জন গ্রেপ্তার ‘ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর’ - মির্জা ফখরুল হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু