বিএনএ, ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন ঝড়! নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি গোপন বাণিজ্য চুক্তি করেছে। যার নাম ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা ART।
অভিযোগ উঠেছে, এই চুক্তির আড়ালে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ শূকরজাত পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে! হালাল বাংলাদেশে কেন হারাম পণ্য? মার্কিন স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে ড. ইউনূস সরকারের করা দেশের স্বার্থ বিরোধী এই অসম বানিজ্য চুক্তি সরকারি দল- বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক দলগুলো—এই ইস্যুতে রহস্যজনক কারণে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত।

ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের একটি ‘গোপন’ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ড. ইউনূস সরকারের আমলে হওয়া এই চুক্তির পরিশিষ্টে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা আঁতকে ওঠার মতো! আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—সেই শূকরজাত পণ্য যেমন ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, চরিজো এবং সালামি আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে এই চুক্তিতে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্যিক চুক্তির পরিশিষ্টে ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভুর্স্ট, চরিজো, এবং সালামির মতো পণ্য বাংলাদেশে আনার শর্ত রাখা হয়েছে। অথচ, আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশে শূকরের মাংস ও শূকরজাত সব ধরনের, পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৩০০ জন সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। যেখানে সব সংসদ সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত গোপন চুক্তির ব্যাপারে নিশ্চুপ, সেখানে একাই গর্জে উঠলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এক নারী! বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েও যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত। নাম তার রুমিন ফারহানা। কী এমন গোপন চুক্তির কথা তিনি ফাঁস করতে চেয়েছিলেন যা শুনে খোদ স্পিকারকেও থামিয়ে দিতে হলো তাকে?
গত ২৯শে এপ্রিল সংসদে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা দাবি করেন, এই গোপন চুক্তিটি জনসম্মুখে আনতে হবে এবং সংসদে আলোচনা করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে কেন দেশের ধর্মীয় অনুভূতি ও আমদানি নীতি বিসর্জন দেওয়া হলো?
কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, ৩০০ জন সংসদ সদস্যের এই নিশ্চুপ উপস্থিতিতে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কোনো আলোচনা ছাড়াই রুমিনের দাবি নাকচ করে দেন! অথচ জনগুরুত্বহীন অনেক বিষয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা হয়েছে সংসদের প্রথম অধিবেশনে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ বলছেন, রুমিন ফারহানা “একাই ৩০০!”
সাবেক সংসদ সদস্য ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মওলা রনি বলেছেন, বিএনপি- জামায়াতের সম্মতিতে, ড. ইউনূস ‘সেইফ এক্সজিট’ পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অসম বানিজ্য চুক্তি করেছে।
মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই চুক্তি এক ধরনের প্রতারণা বলে মনে করছে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে এটি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলেও মনে করছে তারা। শুধু শূকরের মাংসই নয়, দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও এবং চাহিদা না থাকলেও গরু, মুরগি ও ডেইরিসহ বিভিন্ন ধরনের মাংস আমদানি উন্মুক্ত করতে ওই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য অনেকগুলো শর্ত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র— যা মেনেও নেয় ড. ইউনূসের সরকার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চুক্তি অনুসারে বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ ছাড়া মার্কিন কোনো কৃষিপণ্য, ‘স্যানিটারি পরিদর্শনে’ বাংলাদেশ আটকাতে পারবে না বলেও হাস্যকর শর্ত জুড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। মার্কিন পণ্যের বাজার তৈরি করতে গিয়ে দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও আইনের সাথে সাংঘর্ষিক পণ্য আনার সুযোগ দেওয়া —কতটা যৌক্তিক?
ড. মুহা্ম্মদ ইউনূস কী দেশের জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারছেন? কেন এত গোপনীয়তা? আপনি কি মনে করেন এই চুক্তি বাতিল হওয়া উচিত? কমেন্টে আপনার মতামত জানান। লাইক- কমেন্ট- শেয়ার করে বিএনএ নিউজের সঙ্গেই থাকুন।
সৈয়দ সাকিব
![]()

