বিএনএ, ঢাকা: ২০২৬ সালের গণভোট পরবর্তী রাজনীতিতে এখন উত্তাল পরিস্থিতি। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপি এবং রাজপথের দুই মিত্র জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এখন মুখোমুখি অবস্থানে। বিএনপি যেখানে এই প্রক্রিয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ বলছে, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি একে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে। বিষয়টি এখন আর কথার যুদ্ধে সীমা নেই।এটি এখন উচ্চ আদালতে গড়িয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট করেন। গত সপ্তাহে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম অপর একটি রিট করেন।
রেদোয়ান-ই-খোদার করা রিট আবেদনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুলের প্রার্থনা করা হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
মাহবুব আলমের রিটে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যের শপথের ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে করা পৃথক ২টি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার ৪টি রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব আরও বলেন, সংবিধানের ১০৬ ধারায় শপথ নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। সংবিধানে গণভোটের কোন বিধান নেই। ক্ষমতার জোরেই গণভোট করা হয়েছে। হাইকোর্টের দেয়া রুল বিজয়ী হলে গণভোট, জুলাই সনদ, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের গণ পরিষদ সংস্কারের নেয়া শপথ বাতিল হয়ে যাবে।
এতে সংক্ষুদ্ধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের বৈধতাকে আদালতে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা চলছে। যদি পুরোনো সংবিধানের কথা বলা হয় তাহলে শেখ হাসিনাকেই এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে। মঙ্গলবার কুমিল্লার মোগলটুলীতে দলটির কুমিল্লা বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ কেবল সংবিধান নিয়ে নয়, বরং আগামী দিনের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও। বিএনপি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কিছুটা নমনীয় হলেও, সনদে থাকা ৮৪টি প্রস্তাবের সবগুলোতে একমত নয়। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের রুল এবং দলগুলোর এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশকে নতুন কোনো সাংবিধানিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সৈয়দ সাকিব
![]()

