বিএনএ, ঢাকা : কারিগরি বহির্ভূত সিস্টেম লস কমানো এবং নির্বিঘ্ন রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বাকী গ্রাহকদের জন্যও মিটার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘কারিগরি বহির্ভূত সিস্টেম লস কমানো এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্রাহককে হয়ত স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে না। তবে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রাহককে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দেশের ৫ কোটিরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহককে ধাপে ধাপে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, মিটারে কারসাজি, অবৈধ সংযোগ এবং অন্যান্য অনিয়মের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কারিগরি বহির্ভূত বিদ্যুৎ অপচয় হয়। প্রিপেইড মিটার বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিউবোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা পর্যায়ক্রমে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। জুন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৮২৩টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি গ্রাহক গড়ে ৬৬১ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ২০ মে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
বিউবো পরিচালক মো. শামীম হাসান বলেন, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিপিডিবি ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার ১২৬টি স্মার্ট ও প্রচলিত একক ও তিনফেজ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ‘বাকি প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
বিউবোর তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ১৮ লাখ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৪, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ৯ লাখ ১৬ হাজার ৯১০, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ৯ লাখ ১২ হাজার ২৩৩ এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৩টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে।
বিউবো চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার খুচরা গ্রাহককে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
ডিপিডিসি ঢাকা সিটি করপোরেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৯ দশমিক ৯ লাখ গ্রাহককে এবং বিআরইবি সারাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে।
ডেসকো প্রায় ১২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এর বিতরণ নেটওয়ার্ক মূলত ঢাকা মহানগরের উত্তরাংশ, গাজীপুরের টঙ্গী এবং পূর্বাচল মডেল টাউন এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
রাষ্ট্রায়ত্ত নেসকো রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় আবাসিক, কৃষি ও বাণিজ্যিক খাতের প্রায় ২০ লাখ ১১ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
ওজোপাডিকো খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ ৬৮ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
বিউবোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো ২০২২ সালে ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এর আগে ২০১৮ সালে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা চালু এবং যন্ত্রের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ (ভেন্ডিং) ব্যবস্থা শুরু করা হয়।
স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় বিল পরিশোধ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা পুনঃসংযোগের ঝামেলা থাকে না। এতে কোনো ন্যূনতম চার্জ বা জামানত দিতে হয় না এবং বিতর্কিত বিলেরও অবকাশ থাকে না।
এছাড়া স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা প্রচলিত বিদ্যুৎ বিলের হারের ওপর ২ শতাংশ মূল্যছাড় পান। অফ-পিক সময় ও সরকারি ছুটির দিনে ব্যালেন্স কমে গেলে বা ঋণাত্মক হলে আগাম সতর্কবার্তাও পাওয়া যায়।
এ ব্যবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে এবং অস্বাভাবিক ভোল্টেজ ওঠানামা প্রতিরোধেও এটি সহায়ক। পাশাপাশি এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে।
বিউবোর তথ্য অনুযায়ী, মিটারে কারসাজি, অবৈধ সংযোগ এবং অন্যান্য অনিয়মের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কারিগরি বহির্ভূত ক্ষতি হয়। প্রিপেইড মিটার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
বিএনএনিউজ/এইচ.এম।
![]()

