Bnanews24.com
Home » আশুলিয়ায় যাত্রীর মারধরে বাসচালকের মৃত্যু
টপ নিউজ ঢাকা বিভাগ সব খবর সারাদেশ

আশুলিয়ায় যাত্রীর মারধরে বাসচালকের মৃত্যু

বিএনএ, ঢাকা: সাভারের আশুলিয়ায় ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে যাত্রীর মারধরে মো.আরিফ হোসেন (২৬) নামে এক বাস চালক নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর ইটখোলা বাস স্ট্যান্ডে কিরণমালা পরিবহনের চালকের সঙ্গে যাত্রীর মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহত হন বাস চালক।

নিহত বাসচালক আরিফ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার বেশগ্রিপাড়ার মো. মোস্তফার ছেলে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কোনাবাড়ি থেকে কিরণমালা পরিবহনের একটি বাস মিরপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌছলে অজ্ঞাত এক যাত্রী ভাড়া না দিয়েই ইটখোলা বাসস্ট্যান্ডে নেমে যায়। পরে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বাস চালক ও যাত্রী । এ সময় ওই যাত্রীসহ পথচারীরা এগিয়ে এসে বাস চালককে এলোপাথাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বাস চালক। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাসের হেলপার খোকন মিয়া বলেন, কিরণমালা পরিবহনের বাসটি গাজীপুর থেকে রাজধানীর মিরপুর চলাচল করে। আজ বিকেলে কোনাবাড়ী থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর যাওয়ার উদ্দেশে এক যাত্রী বাসে ওঠেন। অনেকবার ভাড়া চাইলেও ওই যাত্রী পরে দেবেন বলে জানান। পরে তার গন্তব্য নরসিংহপুরের নিশ্চিন্তপুর ইটখোলা এলাকা পৌঁছালে ভাড়া না দিয়েই বাস থেকে নেমে যান ওই যাত্রী। এ সময় চালক আরিফ ও আমার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই যাত্রী সড়ক থেকে ইট নিয়ে বাসে ঢিল ছোড়ার চেষ্টা করলে চালক আরিফ বাধা দেন।

তিনি বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যাত্রী চালক আরিফকে মারধর শুরু করেন। এ সময় সড়কে থাকা উৎসুক বেশ কয়েকজনও হঠাৎ ওই যাত্রীর সঙ্গে আরিফকে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে আরিফকে দ্রুত স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ততক্ষণে ওই যাত্রীসহ মারধরকারী বাকি লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতালে সন্ধ্যায় চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে নারী ও শিশু কেন্দ্র থেকে মরাদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরর প্রক্রিয়া চলছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিএনএ/এমএফ