বিএনএ, চট্টগ্রাম:অপ্রশস্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে হতাহতের পাশাপাশি এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মূলত মহাসড়কটি ছোট হওয়ায় ও যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ছোট ছোট অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব খবর পুলিশ পর্যন্ত আসে না। মহাসড়কটি চার লেন বা ছয় লেন করা না হলে দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কমানো যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া নামক এলাকায় কক্সবাজারমুখী একটি রিলাক্স পরিবহনের বাস ও বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৭ জন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান আরও ৩ জন। এরআগে ঈদের দিন সকালে একইস্থানে সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস এবং মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, ওইস্থানে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ঝুকিপূর্ণ ঢালু এবং অপ্রশস্ত সড়ক ও লবণবোঝাই গাড়ি থেকে নিঃসৃত পানি।
গত কয়েক বছরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আহত হয়েছেন কয়েকশ। পুলিশের কাছে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।
হাইওয়ে পুলিশের মতে, একাধিক কারণে মহাসড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে-এটি চার লেনে উন্নীত না করা, আঁকাবাঁকা পথ, দিকনিদের্শনাহীন বাঁক, অদক্ষ চালক দিয়ে ও বেপরোয়া গতিতে যান চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো, চলন্ত অবস্থায় বাসে যাত্রী উঠানো-নামানো, যানবাহন ক্রস করার সময় গতি না কমানো, সংকেত না দিয়ে ওভারটেকের চেষ্টা ও গাড়ি চালনা শুরুর আগে চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা। এসব কারণে ঘটছে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা।
এছাড়াও মহাসড়কের কর্ণফুলী সেতুর দক্ষিণাংশ থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার সড়কে ৪৫টি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এ ছাড়া ১০টির বেশি স্থানে সড়কের ওপর হাটবাজার। এ সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও পুলিশের নাকের ডগায় চলাচল করছে এগুলো। এসব হালকা যানের চালকরা অনেক সময় ভারি যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দেয়। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেক করে, কখনও বড় যানবাহনকে সাইড না দিয়ে সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে বেশির ভাগই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, আইন না মেনে চলাচল, ইটভাটার মাটি ও লবণের পানি সড়কে পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণ।
বিএনএনিউজ/নাবিদ